মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে মিডওয়াইফারি সেবায় প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ
প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করতে মিডওয়াইফারি সেবাকে অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত ‘প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ : প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। সুইডেন ও ইউএনএফপিএর অংশীদারত্বে যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার তখনই অর্থবহ হয় যখন তা বিনিয়োগ, কার্যকর প্রতিষ্ঠান ও দক্ষ জনশক্তিতে রূপ নেয়। তার সরকার ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’—এই সহজ নীতিকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যব্যবস্থার রূপান্তর ঘটাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, পরিবার ও কমিউনিটি থেকে স্বাস্থ্যসেবা শুরু করার লক্ষ্যেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সংস্কার কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে, যেখানে নারী ও শিশুরা বিশেষ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় পেশাদার মিডওয়াইফদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বহুমুখী দক্ষতাসম্পন্ন এই মিডওয়াইফরা প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, নিরাপদ প্রসবের ব্যবস্থা, জটিলতা দ্রুত শনাক্তকরণ এবং মা ও নবজাতকের পরবর্তী পরিচর্যায় (বুকের দুধ খাওয়ানো, টিকাদান ও সুস্থ বিকাশ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দেশে আরও এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী। তারা পরিবারগুলোকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে শুরুতেই স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করতে সহায়তা করবেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এই খাতে একটি শক্তিশালী ভিত্তি পেয়েছিল তার হাত ধরেই। বর্তমানে দেশে ১১ হাজারেরও বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ রয়েছেন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ২৫ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সুইডেন ও ইউএনএফপিএর সহযোগিতায় দেশের ২২টি জেলায় মিডওয়াইফ-নেতৃত্বাধীন সেবা সম্প্রসারিত হয়েছে, যার মাধ্যমে দক্ষ মিডওয়াইফরা ১ লাখ ৫৪ হাজারেরও বেশি প্রসবে সফল সহায়তা দিয়েছেন।
জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর আওতায় প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি করে হেলথ কার্ড থাকবে, যা ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড এবং ইলেকট্রনিক রেফারেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর ফলে গ্রামীণ একজন নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চিকিৎসার সম্পূর্ণ তথ্য সহজেই সংরক্ষিত হবে এবং প্রয়োজনবোধে উচ্চতর হাসপাতালেও তা স্থানান্তরিত করা যাবে।
নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে কেবল গর্ভধারণ ও প্রসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কিশোরীদের স্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ ও প্রাথমিক শনাক্তকরণের ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, তার সরকার চায় প্রত্যেক নারী যেন তার বাসস্থানের কাছাকাছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের একজন দক্ষ পেশাদার মিডওয়াইফের সেবা পাওয়ার সুযোগ পান।
দেশব্যাপী মিডওয়াইফদের সেবা নিশ্চিত করা, কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমেই একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। তিনি এই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং বিশেষজ্ঞদের মূল্যবান মতামত ও সহযোগিতা কামনা করেন।

জাকের হোসেন, নিউইয়র্ক থেকে