‘ইউনিক’ আইডি কার্ড চালুর কাজ শুরু করেছে সরকার : ইসমাইল জবিউল্লাহ
সরকার নাগরিক সেবাপ্রাপ্তি সহজ করতে আলাদা পরিচয়পত্রের বদলে জাতীয়ভাবে একটি ‘ইউনিক’ আইডি কার্ড চালুর কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক আয়োজিত ‘ওয়ান কার্ড’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) ‘ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগ জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত পরিচয়পত্র চালুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবে। তিনি বলেন, যেকোনো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা যাচাই করা জরুরি। এর মাধ্যমে উদ্যোগটির বাস্তব প্রয়োগ, সীমাবদ্ধতা ও ঘাটতি চিহ্নিত করা যায়। পরে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করে তা বৃহত্তর পরিসরে চালু করা সম্ভব হয়। ইউএপি ‘ওয়ান কার্ড’-এর মাধ্যমে একটি প্রশংসনীয় কাজ শুরু করেছে। প্রথমে একটি বিভাগে এর প্রয়োগ দেখে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগেও তা চালু করা যেতে পারে।
ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা কার্ড না রেখে একটি ইউনিক আইডির মাধ্যমেই নাগরিকদের সব সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইউএপির এই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে আসবে।
উচ্চশিক্ষার প্রসারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদানের প্রশংসা করে উপদেষ্টা বলেন, দেশে বর্তমানে শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। শিক্ষার বিস্তারে এবং সরকারের দায়িত্ব পালনে তারা সহযোগী হিসেবে বড় ভূমিকা রাখছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে উৎসাহিত করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই উদ্যোগ অব্যাহত আছে। এর অংশ হিসেবেই সর্বশেষ বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
ইউএপি কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা যাচাই করে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া সহজ হয়। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত পরিচয়ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইউএপির এই উদ্যোগ বেশ সহায় হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএপি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মুজিবুল হক বলেন, ওয়ান কার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রার একটি বড় মাইলফলক। এটি ক্যাম্পাসে একটি আধুনিক, দক্ষ ও সুসংগঠিত ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএপি’র ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ওয়ান কার্ড একটি আধুনিক সেবা ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে একই প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল পরিচয়, লেনদেন (পেমেন্ট) ও তথ্যাদি ব্যবস্থাপনা যুক্ত করা হয়েছে, যা ক্যাম্পাস জীবনকে আরও সহজ ও দ্রুত করবে।
অনুষ্ঠানে ওয়ান কার্ডের ওপর একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয় ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডিজি ইনফোটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদ ওয়ান কার্ডের প্রযুক্তিগত দিক- যেমন ওয়ান আইডি, ডিজি পে, ওয়ান কার্ড ভল্ট এবং সমন্বিত পেমেন্ট ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইউএপির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, শিক্ষক, কর্মকর্তা-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)