ফেনীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১২
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে ফেনীর দাগনভূঞায় দলটির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে দাগনভূঞা পৌর শহরের আতাতুর্ক স্কুল মার্কেটের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন ও জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসভাপতি জামশেদুর রহমান ফটিক গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন ও সাবেক ছাত্রদলনেতা কাজী জামসেদুর রহমান ফটিকের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থান নেওয়া ফটিক গ্রুপের কর্মীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় একপক্ষ অন্য পক্ষকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজীম, পুলিশ সদস্য জামান, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন ও তার স্ত্রী শাহিনা আকবর, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা হুদন, বিএনপিনেতা সাইফুল ইসলাম দুলাল, তার স্ত্রী মহিলা দলের নেত্রী জাহানার বেগম, রাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জামাল হোসেন, বাকি বিল্লাহ, শ্রমিকদলনেতা বাদশা, রিজন, সেচ্ছাসেবক দলের শুক্কুরসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়।
ঘটনার পর পৌর শহরজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে রয়েছে। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন অভিযোগ করে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান শেষে বের হলেই আমাকে ও আমার স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা করা হয়। বিনা উসকানিতে ফটিকের লোকজন হামলা করে বলে জানান তিনি।
অপরদিকে কাজী জাকশেদুর রহমান ফটিক বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে পৌর কমিটির নেতাকে আমন্ত্রণ না জানানোয় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে স্লোগান দেন। এ সময় আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজিম নোমান বলেন, এ ঘটনায় আমার মোবাইল ফোন ভেঙে গেছে। আমার গায়েও ইট পড়েছে। তবে সংঘর্ষের আশঙ্কায় সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। এর পরও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ টহল দিচ্ছে।

তোফায়েল আহাম্মদ নিলয়, ফেনী