শিক্ষিকাকে লাথি মারার ঘটনায় বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষকের অব্যাহতি
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে চেয়ার থেকে লাথি দিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজন স্বীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে তিনি লিখিতভাবে অব্যাহতিপত্র জমা দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নী ইসলাম।
১০ আগস্ট স্বাক্ষরিত অব্যাহতিপত্রটি জমা দেন আমিনুল ইসলাম সুজন। একই সঙ্গে আদালতের আদেশ অমান্য করে অবৈধভাবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসার অপরাধও স্বীকার করেন তিনি।
অব্যাহতিপত্রে বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক সুজন উল্লেখ করেন, গত বছরের ২০ নভেম্বর তিনি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ জানুয়ারি হাইকোর্ট তার আবেদনটি আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। পরে তিনি আদালতের আদেশের কপি সংযুক্ত করে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন। তবে হাইকোর্টের আদেশ সঠিকভাবে বুঝতে না পেরে অনিচ্ছাকৃতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিদ্যালয়ে যোগদানের বিষয়ে একটি অবগতিপত্র পাঠান। ওই চিঠিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি পুনরায় হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনা করে তিনি স্বেচ্ছায় প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আমিনুল ইসলাম সুজন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মামলায় একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে ছিলেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
আদালতের রিট পিটিশনের অপব্যাখ্যা করে বিদ্যালয়ে মব তৈরি করার অভিযোগ রয়েছে সুজনের বিরুদ্ধে। গত ২৯ মার্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলামকে তার অনুসারীরা লাথি দিয়ে চেয়ার থেকে ফেলে দেন। তাকে মারধরও করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক সুজনকে বিদ্যালয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন আদালত।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলাম বলেন, এখনও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল করে আছেন সুজন। শিক্ষকদের হাজিরা খাতা তার অধীনে লুকিয়ে রেখেছেন। আমি যেন বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে না পারি, সে জন্য আমাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন।
এ বিষয়ে জানতে বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজনকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নী ইসলাম বলেন, বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজনের অব্যাহতিপত্রটি পেয়েছি। মাউশি থেকে যে আদেশ আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, আমিনুল ইসলাম সুজন ২০০৪ সাল থেকে নিজেকে বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দাবি করে আসছিলেন। তবে ২০২৩ সালে এক সহকারী শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, তিনি জাল নথিপত্র ও ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই পদটি দখল করেছিলেন। কুমিল্লা জেলা শিক্ষা অফিস এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক তদন্তে তার নিয়োগ ‘জাল ও অনিয়মিত’ বলে প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা