পাবনায় অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪
পাবনার আতাইকুলা এলাকায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের আতাইকুলার মাধপুর সড়াডাঙ্গী এলাকায় এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে গতকাল চালকসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন- পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের সলিম প্রামাণিক, তার স্ত্রী বুলু খাতুন এবং পাবনা পৌর এলাকার উত্তর শালগাড়ীর জামাল শেখের ছেলে অ্যাম্বুলেন্সের চালক রাজ শেখ (৩০)। এঘটনায় গুরুতর আহত সলিম প্রামাণিকের মেয়ে নাজমিন খাতুন ও নাতি রিয়াদ সরদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ১৯ বছরের নাতনি মোছা. কেয়া খাতুন। নাতনির মৃতদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা ফিরছিলেন নিজ গ্রামে। তবে পথের মধ্যে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স চালকসহ একই পরিবারের তিনজন প্রাণ হারান। ঘটনার পরে ওই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মৃত কেয়া খাতুনের ভাই নাফিজ (৭) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যার দিকে মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার মাধপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান রহমান জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থেকে মোছা. কেয়া খাতুন (১৯) নামের মৃতদেহ নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরছিলেন পরিবারের সদস্যরা। এসময় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী পাবনা এক্সপ্রেস নামের বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সের চালকসহ ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। পরে গুরুতর আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে দুজনকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় চিকিৎসকেরা। হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজনের মৃতু হয়। আর শেষে নাফিস নামের ৭ বছরের শিশু মারা যায়। যে মেয়ের লাশ নিয়ে পরিবার আসছিল মেয়েটি কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সড়ক দুর্ঘটনায় স্পটে দুজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যায়।
ওসি আরও জানান, আহত তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মো. ছলিম প্রামানিক (৬৫) নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহত সলিম প্রামাণিক ও বুলু খাতুন অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মৃত কেয়ার নানা ও নানি। সর্বশেষ আজ যে শিশুটি মারা গেছে তার নাম নাফিজ (৭)।

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা