তিন মাসের শিশুর পা মোচড়, সামনে এলো নেপথ্যের কারণ
নরসিংদীর মাধবদীতে পারিবারিক বিরোধের জেরে তিন মাস বয়সী এক শিশুকে পা মোচড়ে দেওয়ার ঘটনায় ৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার লিজা আক্তার বাদী হয়ে মাধবদী থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।
আরও পড়ুন : ছাত্রদলনেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
মামলার আসামিরা হলেন– শিশুটির চাচি লতা বেগম, লতা বেগমের স্বামী কাউসার মিয়া ও তার বাবা আলমাস মিয়া। এ ঘটনায় পুলিশ কাউসার ও আলমাসকে গ্রেপ্তার করলেও মূল অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম পলাতক রয়েছেন। তবে এই ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
আরও পড়ুন : শিশুর পা মোচড় দেওয়ার ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল
অনুসন্ধানে জানা যায়, নরসিংদী সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদি এলাকার জহিরুল মিয়া ও সামিয়া আক্তার দম্পতির তিন মাস বয়সী সন্তান রিজিক জন্মের পর থেকেই নানা জটিলতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এই সুবাদে বাড়ির যাবতীয় কাজ সামিয়ার জা লতা বেগমকে একা করতে হতো। এই নিয়ে দুই জায়ের মধ্যে পারিবারিক মনমালিন্য সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে গত ১১ জুন লতা বেগম শিশুটির পা মোচড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই দৃশ্যটি সামিয়া আক্তার নিজের মোবাইলে ধারণ করেন, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির খোঁজখবর নেয়।
আরও পড়ুন : খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা, মৃত্যুঝুঁকিতে বিদ্যালয়ের ১০৭ শিশু
তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির বাবা জহিরুল মিয়া ও মা সামিয়া আক্তার বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি এডিট করা। তাদের সন্তানের পা ভাঙেনি এবং তার পায়ে কোনো ব্যান্ডেজ বা প্লাস্টারও নেই। পারিবারিক মনমালিন্যের জেরে জা বাচ্চার পায়ে মোচড় দিয়েছিল সত্য, তবে পরবর্তীতে লতা বেগমের বাবা তাদের বাসায় এসে তাকে বকাঝকা করায় বিষয়টি পারিবারিকভাবেই মীমাংসা হয়ে গিয়েছিল।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ঘটনার সত্যতা ও ভয়াবহতা বিবেচনা করে মঙ্গলবার রাত ১২টার পর সমাজসেবা অফিসের প্রবেশন অফিসার বাদী হয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক মূল অভিযুক্ত চাচিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বজিৎ সাহা, নরসিংদী