দিনাজপুরে নিজ ঘর থেকে মা ও কিশোরী মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মা ও তার কিশোরী মেয়ের ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের কালিরহাট ছোট চন্ডিপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতরা হলেন—ওই গ্রামের রিপেন চন্দ্রের স্ত্রী ছবি রানী (৪০) এবং তাদের মেয়ে পল্লবী রানী (১৫)। পল্লবী স্থানীয় গোল্ডেন হোপ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলের দিকে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের মনে গভীর সন্দেহ জাগে। পরে ছবি রানীর স্বামী রিপেন চন্দ্র স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের কাঠের বর্গায় লাগানো সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মা ও মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। দ্রুত তাঁদের নিচে নামানো হলেও ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনরা নিশ্চিত করেন। খবর পেয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মরদেহ দুটি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্কুলছাত্রী পল্লবী একই বিদ্যালয়ের এক সহপাঠী শিক্ষার্থীকে পছন্দ করত। গত ১৯ জুন সে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। পরে দুই পরিবারের যৌথ উদ্যোগে তাদের বুঝিয়ে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর থেকেই পল্লবীকে পরিবারের সদস্যরা সবসময় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতেন এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারে প্রায়ই অশান্তি ও মনোমালিন্য চলছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
নিহতের মামা সুশীল চন্দ্র বলেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরেই তার বোন ও ভাগনির এমন মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক পরিণতি হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।
পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, কী কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে এবং পুলিশি তদন্ত শেষেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফারুক হোসেন, দিনাজপুর
মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)