ভারি বর্ষণে রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের শঙ্কা, ৩৯ এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ
রোববার থেকে শুরু হওয়া থেমে থেমে ভারি বর্ষণের ফলে রাঙামাটির পাহাড়ি উপজেলা কাউখালীতে বড় ধরনের পাহাড়ধসের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং ঘাগড়া ছড়া তীরবর্তী ঘরগুলোতে পানি উঠতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাতে মাইকিং করার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুরোধ জানাচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে উপজেলার চারটি ইউনিয়নে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা গেছে। এরই মধ্যে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৩৯টি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজ কুমার শীল বলেন, ঘাগড়া ইউনিয়নের আরটিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে সোমবার রাত থেকেই ১৩টি পরিবারের ৩৫ জন সদস্য অবস্থান করছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকেল নাগাদ আশ্রয়কেন্দ্রে অর্ধশতাধিক পরিবার আশ্রয় নিতে পারে।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাজীব হোসেন বলেন, সোমবার সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। উপজেলার ৩৯টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ যেন নিরাপদে থাকেন, সেজন্য প্রশাসন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
মো. রাজীব হোসেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দারা নিজেরা স্বেচ্ছায় সরে না আসলে জানমালের সুরক্ষায় আইন প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হবে। পাহাড়ধসের সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
২০১৭ সালের জুনে কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণের ফলে কাউখালীতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে ২১ জন নিহত হয়েছিলেন এবং পুরো রাঙামাটি জেলাজুড়ে ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। পুরোনো সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার আগেভাগেই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে প্রশাসন।

জয়নাল আবেদীন, রাঙামাটি (কাউখালী-নানিয়ারচর)