নড়াইলে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধ, বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
নড়াইল সদর উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে মোস্তফা গাজী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের মহারাগ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত মোস্তফা গাজী ওই গ্রামের আকমল গাজীর ছেলে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ভদ্রবিলা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ভদ্রবিলা ও পলইডাঙ্গা—এই দুই গ্রামের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। ওই দিন মাঠে খেলা চলাকালীন দুই পক্ষের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে একটি বিরোধের সৃষ্টি হয়। এই বিরোধ মেটাতে গতকাল বৃহস্পতিবার পাশাপাশি দুই গ্রামের স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও স্থানীয়রা বিষয়টি সমাধান করতে পারেননি। এই বিরোধপূর্ণ বিষয়টি মীমাংসা করার লক্ষ্যে আজ শুক্রবারও আরেকটি শালিস বৈঠক বসার কথা ছিল।
স্থানীয়রা জানান, আজ বিকেল তিনটার দিকে মোস্তফা গাজী ভদ্রবিলা বাজার থেকে কেনাকাটা করে বাড়িতে জিনিসপত্র রেখে পুনরায় বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি ভদ্রবিলা বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ভদ্রবিলা ও পলইডাঙ্গা দুই গ্রামের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়৷ এ বিরোধ মেটাতে গতকাল একটা শালিশ হলেও তা সমাধান হয়নি এবং আজও একটা শালিস হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝেই আজ শুক্রবার বাজার থেকে কেনাকাটা করে বাড়িতে জিনিসপত্র রেখে তিনি যখন আবার ভদ্রবিলা বাজারে যাচ্ছিলেন, তখন বাজারের কাছাকাছি পৌঁছালে ৭ থেকে ৮ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওসি আরও জানান, ঘটনার পর এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।

এম. মুনীর চৌধুরী, নড়াইল