৩২ মণের ‘টাইটানিক’ ও ২৮ মণের ‘এ্যালিয়েন’ দেখতে ভিড়
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর গ্রামের ‘ফার্ম সাইড এ্যাগ্রো’ ফার্মে এখন ঈদের আগাম উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ খামারটিতে ছুটে আসছেন কেবল এক নজর সাড়ে ৩২ মণ ওজনের বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘টাইটানিক’ আর ২৮ মণ ওজনের ‘এ্যালিয়েন’কে দেখতে।
ব্যতিক্রমী এই খামারের স্বপ্নদ্রষ্টা তরুণ উদ্যোক্তা ফয়সাল বিন মালেক। পেশায় শিক্ষক এবং একটি আন্তর্জাতিক ভাষা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হলেও হৃদয়ের টান ছিল মাটি আর গবাদিপশুর প্রতি। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষে যুক্তরাজ্য থেকে সিএ সম্পন্ন করা এই তরুণ ৯ বছর আগে দাদার বাড়ির সামান্য জমিতে ছোট্ট পরিসরে উদ্যোগটি শুরু করেছিলেন। আজ সেই উদ্যোগই প্রায় ষাট বিঘা জমিতে বিস্তৃত হয়ে আধুনিক এক ডেইরি খামারে রূপ নিয়েছে। তিন বিঘার ওপর মূল খামারটি অবস্থিত এবং বাকি জমিতে চাষ হয় ঘাস, ভুট্টা ও গবাদিপশুর প্রাকৃতিক খাবার।
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এবার খামারে ফ্রিজিয়ান, সিন্ধি ও দেশি জাতের ১০৫টি সম্পূর্ণ চর্বিহীন ও স্বাস্থ্যসম্মত কুরবানির গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৯২টি গরুই বিক্রি হয়ে গেছে। রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শৌখিন ক্রেতারা এসে দরদাম চূড়ান্ত করে বুকিং দিয়ে যাচ্ছেন। খামারে বর্তমানে ১০ মণ থেকে শুরু করে সাড়ে ৩২ মণ পর্যন্ত ওজনের প্রায় দুই শতাধিক গরু রয়েছে।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পুরো খামারটির ব্যবস্থাপনাই এখন আধুনিক ও পরিকল্পিত। এখানে রয়েছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত মনিটরিং, ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র ও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে বাইরে থেকে কোনো রাসায়নিক খাদ্য বা কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ওষুধের প্রয়োজন পড়ে না।
খামারের চেয়ারম্যান আল ফারুক আহমেদ বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সৌখিন ক্রেতারা আসলেও স্থানীয়দের আগ্রহ তুলনামূলক কম। অথচ এই খামারের প্রতিটি গরুই শতভাগ প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়।
তরুণদের উদ্দেশ্যে সফল খামারি ফয়সাল বিন মালেক বলেন, দেশের তরুণরা চাইলে চাকরি না খুঁজে কৃষি ও খামারকে ঘিরেও নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে পারে। শুধু দরকার ধৈর্য, সঠিক পরিকল্পনা আর সততা।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মজিবুর রহমান বলেন, মানিকগঞ্জ একটি কৃষিনির্ভর জেলা। চলতি বছরে জেলার ১০ হাজার ৮১১টি খামারে প্রায় ৯৯ হাজার ৭১১টি বিভিন্ন জাতের পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সিংগাইর উপজেলার ‘ফার্ম সাইড এগ্রো’ খামারটি ইতোমধ্যে জেলায় উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে এবং তাদের পরিবেশ অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও মনোরম। নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত ঘাস ও উন্নত খাবারের ব্যবস্থা থাকায় এখানে অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গবাদিপশু পালন করা সম্ভব হচ্ছে, যা বাজারেও বেশ সাড়া ফেলেছে।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ