চাহিদার চেয়ে বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত, সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ বন্ধের দাবি
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নেত্রকোনার বিভিন্ন খামারে সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে লালন-পালন করে প্রস্তুত করা হয়েছে পর্যাপ্ত কোরবানির পশু। রাসায়নিক ও ভেজালমুক্ত খাদ্যে বড় করা এসব পশুর দেশজুড়ে ব্যাপক চাহিদা থাকায়, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ উপায়ে ভারতীয় চোরাই গরু প্রবেশ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।
খামার সূত্রে জানা গেছে, এবার দেশি গরুর পাশাপাশি উন্নত জাতের শাহীওয়াল, গীর, ফ্রিজিয়ান ও নেপালি জাতের গরুর সমাহার ঘটেছে জেলাটিতে। এর মধ্যে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ‘চিরাম ন্যাচারাল এগ্রো ফার্ম’-এ নজর কাড়ছে ৯০০ কেজি ওজনের অ্যালবিনো মহিষসহ ১২ শত থেকে ১৪ শত কেজি ওজনের বাহারি সব গরু। কোনো ধরনের কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজাকরণ বা রাসায়নিক উপাদান ছাড়াই খড়, কুঁড়ো ও সবুজ ঘাসের মতো প্রাকৃতিক খাদ্য দিয়ে এসব পশু কোরবানির উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার নেত্রকোনার ১০টি উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার খামারি ও সাধারণ কৃষকের ঘরে কোরবানির জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৮৮টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলায় এবার কোরবানির পশুর মোট চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার। সেই হিসাবে চাহিদার তুলনায় প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি পশু অতিরিক্ত রয়েছে। পশু কেনাবেচা সহজ করতে জেলার ১০টি উপজেলায় ইতিমধ্যে ১১৩টি স্থানে পশুর হাট বসানো হয়েছে, যেখানে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়েছে।
বারহাট্টার চিরাম ন্যাচারাল এগ্রো ফার্মের পরিচালক গোলাম রাব্বী বলেন, আমরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে অনেক খরচ করে পশুগুলো বড় করেছি। দেশীয় খামারি ও দেশের পশুখাত বাঁচাতে হলে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় চোরাই গরু আসা যেকোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে। তা না হলে খামারিরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন।
নেত্রকোনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, জেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। খামারিরা যাতে ন্যায্য মূল্য পান, সে বিষয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগ তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে পশুর হাটগুলোতে সার্বিক তদারকি ও খামারিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

ভজন দাস, নেত্রকোনা