বিষখালী নদীতে বড়শিতে ধরা পড়ল ডলফিন
বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিষখালী নদীতে বড়শিতে ধরা পড়েছে প্রায় ২০ কেজি ওজনের ধূসর বর্ণের একটি গাঙ্গেয় ডলফিন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জেলেদের ধারণা, খাবারের সন্ধানে নদীর তীরবর্তী এলাকায় চলে আসায় অসাবধানতাবশত বড়শিতে আটকে পড়ে প্রাণীটি।
গতকাল শনিবার (১৬ মে) রাতে বেতাগী ফেরিঘাট সংলগ্ন বিষখালী নদীতে স্থানীয় এক জেলের বড়শিতে ডলফিনটি ধরা পড়ে। পরে সেটিকে নদী থেকে তীরে তুলে আনা হলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ডলফিনটি দেখতে ফেরিঘাট এলাকায় জড়ো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, প্রতিদিনের মতো কয়েকজন জেলে নদীতে মাছ ধরছিল। রাতে নদীর মাঝামাঝি এলাকায় বড় আকৃতির কিছু একটা বড়শিতে আটকে যায়। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর সেটিকে তীরে আনা হলে দেখা যায়, সেটি একটি গাঙ্গেয় ডলফিন। প্রথমে অনেকেই প্রাণীটিকে শনাক্ত করতে পারেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বড়শিতে আটকে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পানিতে ছটফট করতে থাকে ডলফিনটি। একপর্যায়ে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পরে মারা যায়। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি সেটিকে নিয়ে চলে যায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় জেলে জলিল মৃধা বলেন, ডলফিনটি বড়শিতে আটকে যাওয়ার পর অনেকক্ষণ পানিতে ছটফট করছিল। পরে দুর্বল হয়ে মারা যায়। ধারণা করছি, খাবারের সন্ধানে তীরের কাছে এসে বড়শিতে আটকে গেছে।
বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী, গাঙ্গেয় ডলফিন একটি সংরক্ষিত ও বিপন্ন প্রজাতি। আইনটির তফসিল-১ অনুযায়ী এ প্রাণী শিকার, পরিবহণ কিংবা বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
স্থানীয় পরিবেশবাদীরা বলছেন, নদীতে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি ও নজরদারি জোরদার করা জরুরি। তাদের মতে, বিষখালী নদীতে গাঙ্গেয় ডলফিনের উপস্থিতি নদীর পরিবেশগত গুরুত্বেরও ইঙ্গিত বহন করে।
এ বিষয়ে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ফেসবুকে ডলফিন ধরা পড়ার বিষয়টি দেখেছি। পরে কী হয়েছে, তা এখনও জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাহমুদুর রহমান, বরগুনা (পাথরঘাটা-তালতলী)