সশরীরে হাজিরা থেকে অব্যাহতি পেলেন লতিফ সিদ্দিকী
রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাস বিরোধ আইনের মামলায় সশরীরে হাজিরা অব্যাহতি পেলেন সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী। আজ বুধবার (১৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই আদেশ দেন।
আজ এই মামলায় লতিফ সিদ্দিকী আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে হাজিরা দেন। এ সময়ে তার আইনজীবী ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ ধারায় আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন। এ সময় আদালত শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করেন।
লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী গোলাম রাব্বানী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ এই মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত হাজিরা মওকুফের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তবে লতিফ সিদ্দিকী আদালতকে বলেছেন, তিনি সশরীরে আদালতে এসে হাজিরা দেবেন।
আইনজীবী আরও বলেন, আজ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ছিল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় বিচারক আগামী ২৪ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
নথি থেকে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৮ অগস্ট বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির একটি প্রোগ্রাম থেকে লতিফ সিদ্দিকী, সাংবাদিক পান্নাসহ ১৬ জনকে আটক করা হয়। পরদিন শাহবাগ থানার সন্ত্রাস বিরোধ আইনের গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরে গত ৬ নভেম্বর বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ লতিফ সিদ্দিকী ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাকে অন্তর্বর্তী জামিন দেন। জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ তাদের জামিন বহাল রাখেন। পরে তারা কারামুক্ত হন।
এজাহারে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেগুনবাগিচায় বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই একদল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিতও করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন ও আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম।

আদালত প্রতিবেদক