২১ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণে অনিয়ম, এসএসসির প্রশ্নপত্র সংকট
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ব্রাহ্মণকান্দা আব্দুল শরীফ একাডেমি স্কুলের ২১ জন পরীক্ষার্থীর ফরম পূরণ নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে অযোগ্য শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করানোর ফলে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিদিন প্রশ্নপত্র সংকট দেখা দিচ্ছে, যা নিয়ে উপজেলা জুড়ে সমালোচনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ওই ২১ জন শিক্ষার্থীর তথ্য সঠিক সময়ে সমন্বয় না হওয়ায় পরীক্ষার শুরু থেকেই কেন্দ্রে প্রতিদিন ২১টি প্রশ্নপত্র কম পড়ছে। এতে হল সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের নির্দেশে ট্রেজারি থেকে পুনরায় প্রশ্নপত্র আনিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হচ্ছে। গত বুধবার (৬ মে) বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ৩৯ জন এবং অকৃতকার্য ২৮ জন মিলিয়ে মোট ৬৭ জন পরীক্ষার্থী থাকার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আরও ২১ জন অযোগ্য ও বহিরাগত শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় ৮ লাখ টাকারও বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা হলেও বাকি টাকা প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক ও এক অভিভাবক সদস্য ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনিয়মের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এনামুল কবির বলেন, তার পাসওয়ার্ড চুরি করে কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবক সদস্য এই কাজ করেছেন। এমনকি তাকে শারীরিক হেনস্তার হুমকি দিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম কবির জানান, প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়েই তারা কাজ করেছেন এবং কোচিং ফি বাবদ নেওয়া টাকা শিক্ষকরা ভাগ করে নিয়েছেন।
অভিভাবক সদস্য সজিব তালুকদার জানান, বিশেষ সুপারিশ ও এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে তিনি এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত ছিলেন।
এদিকে সাধারণ অভিভাবক ও স্থানীয় সুধী সমাজের মতে, অর্থের বিনিময়ে অযোগ্যদের সুযোগ করে দেওয়ায় বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। শিক্ষকদের এমন দুর্নীতির কারণে শিক্ষার মান ও পাশের হার কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এই বিষয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
ভাঙ্গার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, তিনি বিষয়টি বিস্তারিত জেনেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনায় স্কুলের কেউ অনিয়মের সাথে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর