ঝড়ে উপড়ে পড়ল মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বটবৃক্ষ
যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের শৈশব-স্মৃতিবিজড়িত সেই ঐতিহাসিক কালজয়ী বটবৃক্ষটি কালবৈশাখী ঝড়ে উপড়ে পড়েছে। প্রায় ৩০০ বছরের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশাল মহিরুহটির পতনে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী ও পর্যটকরা।
গতকাল শনিবার (২ মে) দুপুরে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তীব্রতায় কপোতাক্ষ নদের তীরে মালোপাড়ায় অবস্থিত এই বিশাল গাছটি শিকড়সহ উপড়ে পড়ে। স্থানীয়দের মতে, গাছটির বয়স আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ বছর। প্রায় ২০ শতক জমিজুড়ে ডালপালা ও শিকড় ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই গাছটির নিচেই মহাকবি শৈশবে খেলাধুলা করতেন। এই গাছটিকে কেন্দ্র করেই তিনি তাঁর বিখ্যাত ‘বটবৃক্ষ’ কবিতাটি লিখেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দীর্ঘদিনের পুরোনো শিকড় আলগা হয়ে গাছটি উপড়ে পড়ে। জনশূন্য স্থানে গাছটি পড়ায় বড় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও এটি এ অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অপূরণীয় ক্ষতি। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই বটতলায় নিয়মিত পূজা-অর্চনা পালন করতেন। সাগরদাঁড়িতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছেও এই গাছটি ছিল অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
বটবৃক্ষটি ভেঙে পড়ার খবরে মালোপাড়ায় ভিড় জমান সর্বস্তরের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা সুনীল হালদার (৭০) বলেন, বটবৃক্ষটি নিয়ে অনেক স্মৃতি রয়েছে। এটি দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা আসতেন। আজ যেন আমাদের ইতিহাসের একটা বড় অধ্যায় শেষ হয়ে গেল।
মধুসূদন একাডেমির পরিচালক ও গবেষক কবি খসরু পারভেজ জানান, কবি ১৮৬৫ সালে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে বসে তাঁর শৈশবের এই স্মৃতিময় গাছটি নিয়ে চতুর্দশপদী (সনেট) ‘বটবৃক্ষ’ কবিতাটি লিখেছিলেন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই স্মৃতিময় গাছটি রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় কবির শেষ স্মৃতিচিহ্নটিও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। এটি অত্যন্ত বেদনার।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)