কচ্ছপগতিতে চলছে সড়ক সংস্কার, দুর্ভোগে ৪০ গ্রামের মানুষ
যশোরের কেশবপুর-পাঁজিয়া-কলাগাছি-কুমারঘাটা সড়কের সংস্কার কাজ আরসিআইপি প্রকল্পের অধীনে শুরু হলেও কচ্ছপগতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ৩৫ থেকে ৪০টি গ্রামের বাসিন্দা। ১৪.৫ কিলোমিটার কার্পেটিং ও আরসিসি ঢালাইয়ের এই প্রকল্পে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে এই উন্নয়ন কাজের কার্যাদেশ পায় গোপালগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্স’। তবে অভিযোগ উঠেছে, মণিরামপুরের আব্দুল খালেক (ভাটা খালেক) নামে এক ঠিকাদার তার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স দিগন্ত এন্টারপ্রাইজ’র মাধ্যমে কাজটি কিনে নিয়ে পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা না থাকায় কাজটিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
২০২৪ সালের ১০ মার্চ শুরু হওয়া এই কাজ ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ আড়াই বছর পার হতে চললেও কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। সড়কের বেহাল দশার কারণে ১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সাধারণ মানুষকে এখন ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে রোগী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা পোহাচ্ছেন সীমাহীন কষ্ট।
বেলকাটি গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী রায়হান হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সপ্তাহে চার দিন সাইকেল চালিয়ে কেশবপুর শহরে যেতে হয়। রাস্তার কাজের যে দশা, তাতে চলাফেরা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এক সপ্তাহ কাজ হলে পরের দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার আব্দুল খালেক বলেন, বিভিন্ন কারণে কাজে দেরি হচ্ছে। তবে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আমরা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি। নিম্নমানের ইটের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, তার ভাটার এক নম্বর ইট দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলী এম. এ জাসির জানান, এই ঠিকাদার নিজের খেয়ালখুশিমতো কাজ করেন, কারো কথা শোনেন না। যেহেতু কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, তাই তাকে চিঠি দেওয়া ছাড়া আপাতত আমাদের আর কিছু করার নেই।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)