রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং হতে ৪৫ দিন লাগবে : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ৪৫ দিন লাগবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
এদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থার মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ এবং বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
‘রূপপুর থেকে রূপান্তর’—এই স্লোগানে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এ ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ঘিরে প্রকল্প এলাকা ও আশপাশের এলাকাজুড়ে চলছে উৎসব।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর ধাপে ধাপে বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করা হবে। এসব প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুতেই প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু হলে এ ইউনিট থেকে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়া দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরদীর জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান (কুল ময়েজ) বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আজ জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হওয়া অত্যন্ত আনন্দের খবর। এই প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই নয়, কৃষি খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে এবং কৃষি উৎপাদন আরও বাড়বে। আমরা ঈশ্বরদীবাসী আজ সত্যিই গর্বিত ও আনন্দিত।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহসান হাবিব আকাশ বলেন, রূপপুর প্রকল্প আমাদের জাতীয় গর্বের একটি প্রতীক। এটি দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমরা চাই, প্রকল্পটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সফলভাবে পরিচালিত হোক এবং এখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছাক–এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
রূপপুর গ্রামের বাসিন্দা তুষার বলেন, আমার দাদার সময় থেকেই শুনে আসছি এখানে একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র হবে। অবশেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে অগ্রসর হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং এটি আমাদের নতুন করে আশাবাদী করে তুলছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী কলিম জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি চালু হলে এই অঞ্চলের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। এটি আমাদের স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়েছে আধুনিক ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর প্রযুক্তি। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে মোট দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণে ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্পের প্রকৌশলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

রাসেল আলী, পাবনা (ঈশ্বরদী)