ইসলামাবাদ আলোচনা : কূটনীতি কি আরও সংঘাতের জন্ম দিতে পারে?
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। তবে সোমবারের (২০ এপ্রিল) এই বহুল প্রতীক্ষিত আলোচনা শুরু হওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কূটনীতি যখন সংঘাত মেটানোর হাতিয়ার হওয়ার কথা, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা উল্টো উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে কি না—সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। খবর বিবিসির।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধিদল পাঠানোর ইঙ্গিত দিলেও, তেহরানের অবস্থান এখনো নেতিবাচক। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য তাদের এখন পর্যন্ত কোনো পরিকল্পনা নেই। আলোচনায় বসার ন্যূনতম শর্ত ‘উভয় পক্ষের উপস্থিতি’ নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো আয়োজনই এখন ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রকাশ্যে উভয় দেশ যে কঠোর অবস্থান দেখাচ্ছে, তা অনেক সময় অভ্যন্তরীণ জনমত রক্ষার কৌশল মাত্র। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই একে অপরের ওপর প্রকাশ্য চাপ প্রয়োগ করে আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে চায়। তবে এবার পরিস্থিতির ভিন্নতা তৈরি করেছে হরমুজ প্রণালি।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করছে। ট্রাম্প সম্প্রতি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন। পাল্টা জবাবে মার্কিন নৌবাহিনী একটি ইরানি কার্গো জাহাজ জব্দ করার ছবি প্রকাশ করেছে। ইরান এই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করায় পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। মূলত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটিই এখন আলোচনার পথে প্রধান ‘তীক্ষ্ণ কাঁটা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
আগামী বুধবার (২২ এপ্রিল) দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। যদি এর মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তবে এই কূটনীতিই কি আরও বড় সংঘাতের পথ প্রশস্ত করবে? যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের ওপর কার্যকর অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে, তখন ইরানও তাদের প্রধান হাতিয়ার ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে নারাজ।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক