বোরো মৌসুমে ডিজেল সংকট, সেচ নিয়ে বিপাকে কৃষক
বোরো ধানের ভরা মৌসুমে নড়াইলে দেখা দিয়েছে তীব্র ডিজেল সংকট। সেচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্থানীয় বাজারে চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার হাজারো প্রান্তিক কৃষক। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় একদিকে যেমন উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আজ সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের মাঠে দেখা যায়, কৃষক সাব্বির হোসেন মাত্র এক লিটার তেল নিয়ে তার তিন একর জমিতে পানি দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, এক লাখ টাকা লোন নিয়ে আবাদ করেছি। এখন জমিতে পানির খুব দরকার, অথচ দোকানে দোকানে ঘুরেও ডিজেল পাচ্ছি না। পানির অভাবে জমির মাটি শুকিয়ে গেছে, ধানের গাছে লালচে ভাব ধরেছে। এভাবে চললে পথে বসতে হবে।
একই সমস্যার কথা জানান রুখালী মাঠের কৃষক রমজান আলি। তিনি বলেন, অনেক দোকানে তেল থাকলেও তারা বিক্রি করছে না। আবার কোথাও কোথাও নির্ধারিত ১০৫ টাকার ডিজেল ১১০ থেকে ১১৫ টাকা, এমনকি তার চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা পাইকারি পর্যায়েই তেল পাচ্ছেন না। গোবরা বাজারের তেল বিক্রেতা মিশর জানান, গত ১০ দিন ধরে সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা ডিজেল বিক্রি করতে পারছেন না।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় পাঁচ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যেখান থেকে তিন লাখ ৪৫ হাজার ৬২৩ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তেলের এই সংকট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, আমাদের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। কোথাও বেশি দামে ডিজেল বিক্রি হলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হচ্ছে।
কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল ইসলাম জানান, ডিজেল বিক্রির দোকানগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশি দামে তেল বিক্রির অপরাধে যোগানিয়া বাজারের এক দোকানিকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এম. মুনীর চৌধুরী, নড়াইল