সালিশে অপমান সইতে না পেরে তরুণের আত্মহত্যা
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সালিশের শাস্তি ও অপমান সহ্য করতে না পেরে মাসুম (১৯) নামের এক তরুণ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনটি হাঁস চুরির অভিযোগে শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় মাসুমকে শাসানো ও মারধর করা হয়। রোববার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশে মাসুমকে দোষী সাব্যস্ত করে নাকে খত দেওয়ানো হয়। পাশাপাশি তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। এ সময় তাকে ও তার পরিবারকে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার পরিবারের।
মাসুমের মা মৌসুমী বেগম বলেন, হাঁস চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু লোকজন আমার ছেলেকে মারধর করে ও হুমকি দেয়। সালিশে তাকে অপমানজনক শাস্তি দেওয়া হয় এবং জরিমানা করা হয়। আমি বিকেলে বাড়ির বাইরে ছিলাম। এ সময় খবর পাই, অপমান সইতে না পেরে সে গলায় ফাঁস দিয়েছে।
মাসুমের খালা সুমি বেগম বলেন, এটি সাধারণ আত্মহত্যা নয়, তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল গনি বলেন, এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
অভিযোগকারী পক্ষের সদস্য নয়ন পাটওয়ারী বলেন, শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে আমাদের ঘর থেকে তিনটি হাঁস চুরি হয়। পরে জানতে পারি, মাসুম ও আল-আমিন আমার আত্মীয়ের কাছে হাঁসগুলো বিক্রি করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানালে তিনি সালিশের ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, হাঁস চুরির অভিযোগের পর এলাকাবাসীকে নিয়ে সালিশ করা হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে জরিমানা করা এবং নাকে খত দিতে বলা হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে তার আত্মহত্যার খবর পাই। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, যুবকের আত্মহত্যার সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ১০টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আজ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)