ফ্যামিলি কার্ডে নতুন স্বপ্ন, কাল উদ্বোধন
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বিএনপি সরকারের ফ্যামিলি কার্ডের সুফল পেতে যাচ্ছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার হতদরিদ্র মানুষ। আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) উদ্বোধন হতে যাচ্ছে এই ফ্যামিলি কার্ড। তাই উৎসবের আমেজ আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের কমতি নেই সুবিধাভোগী এসব পরিবারগুলোর মধ্যে। এই কাঙ্ক্ষিত দিনটির জন্য এখন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তারা।
স্থানীয় প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতোমধ্যে সুবিধাভোগীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে এই উপজেলার একটি ওয়ার্ডের ৬০০টির বেশি মহিলা প্রধান পরিবার পাবে এই সুবিধা। প্রতি মাসে প্রত্যেককে মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে।
উপজেলা সদর থেকে ১৪-১৫ কিলোমিটার উত্তরে জয়পুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বেলঘাট গ্রাম। এই গ্রামের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষদের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। ফলে ৬০০টি পরিবার প্রধান মহিলারা এই সুবিধা পাবেন। এ নিয়ে সুবিধাভোগী মানুষদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ লক্ষ্য করা গেছে।
বেলঘাট গ্রামে গিয়ে কথা হয় আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, আমরা আগের সরকারের আমলে কোন কার্ড পাইনি। কার্ড নিতে গেলে বলতো টাকা লাগবে। আমরা টাকা দিতে পারিনি, কার্ডও পাইনি। এবার ফ্যামিলি কার্ড পাব—এই আশায় আছি। আরেক মহিলা সাবানা বেগম জানান, বিএনপি সরকার এসেই আমাদের মতো অসহায় মানুষদের কথা চিন্তা করে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে। আমরা খুব খুশি। কিছু হলেও পরিবারে স্বচ্ছলতা আসবে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। সেই প্রতিশ্রুতি এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড ঘিরে উপজেলাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ তৈরি হয়েছে। আমাদের নবাবগঞ্জে প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি চালু করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে ধন্যবাদ জানাই।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শুভ্র প্রকাশ চক্রবর্তী বলেন, দিনাজপুর-৬ সংসদীয় আসনের নবাবগঞ্জের জয়পুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বেলঘাট গ্রামের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষ এই কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে গ্রামের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষদের তালিকা তৈরি করে ঢাকায় পাঠিয়েছি। ৬০০টির উপরে পরিবারপ্রধান মহিলাকে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। চূড়ান্ত তালিকা ঢাকা থেকে আসবে। আজকের মধ্যেই হয়তো আমরা পেয়ে যাব। তবে এখান পর্যন্ত তালিকা পাইনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অপেক্ষার অবসান। এর পরই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। আগামীকালই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। সেখানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তরা উপস্থিত থাকবেন। সেই লক্ষ্যে আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। একজন সুবিধাভোগী প্রতি মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে পাবে।

জাহিদুল ইসলাম, হিলি