চাকরির পেছনে না ছুটে স্ট্রবেরি চাষে চার বন্ধুর বাজিমাত
সবুজ পাতার নিচে ঝুলছে লাল, খয়েরি আর সবুজাভ স্ট্রবেরি। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় সেই বিলিতি ফলের মিষ্টি গন্ধে এখন মাতোয়ারা দিনাজপুরের বিরল উপজেলার রবিপুর গ্রাম। পড়াশোনা শেষ করে চাকরির পেছনে না ছুটে মাটির টানে কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন চার অদম্য তরুণ- শাহরিয়ার হোসেন, আরিফ হোসেন, মনিরুজ্জামান ও ছামিউল ইসলাম। তাদের হাত ধরে গড়ে ওঠা স্ট্রবেরি বাগান দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত মানুষ।
উদ্যোক্তা ছামিউল ইসলাম জানান, ইউটিউব দেখে উচ্চমূল্যের ফসল চাষে তার আগ্রহ জাগে। প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু করে হোঁচট খেলেও তিনি হাল ছাড়েননি। তার এই জেদ দেখে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশী শাহরিয়ার ও অন্য দুই বন্ধু। শাহরিয়ার বলেন, ছামিউলের কৃষিপ্রেম দেখে আমরা চারজন এক হই। বর্তমানে লাভের মুখ দেখে মনে হচ্ছে আমাদের পরিশ্রম সার্থক।
৮৭ শতাংশ জমিতে আধুনিক ‘মালচিং’ পদ্ধতিতে তারা গড়ে তুলেছেন এই নজরকাড়া বাগান। এখানে উইন্টারডন, ফেস্টিভ্যাল ও আমেরিকান ফেস্টিভ্যালসহ চারটি জাতের প্রায় ১৫ হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে। চারা লাগানোর মাত্র ৭৫ দিনের মাথায় ফলন আসতে শুরু করেছে। ডিজিটাল যুগে প্রচারের জন্য তারা ‘বিরল অ্যাগ্রো হাব’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলেছেন, যা দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
ইতোমধ্যেই তারা প্রায় সাড়ে আট মণ স্ট্রবেরি বিক্রি করেছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি স্ট্রবেরি গড়ে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উদ্যোক্তারা আশা করছেন, পুরো মৌসুমে প্রায় ১৫০ মণ ফলন পাওয়া যাবে। খরচ বাদ দিয়ে এই মৌসুমে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারা। শুধু স্ট্রবেরিই নয়, তারা ১২ একর জমি ইজারা নিয়ে যৌথভাবে শসা, টমেটো, বেগুন, পেয়ারা ও লিচু ফলাচ্ছেন।
বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার জানান, দিনাজপুর এলাকাটি শীতপ্রধান হওয়ায় এখানে স্ট্রবেরি চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে এই উদ্যোক্তাদের সার, উপকরণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত দোআঁশ মাটিতে এই চাষ অত্যন্ত লাভজনক।

ফারুক হোসেন, দিনাজপুর