ফরিদপুরে মাদক ব্যবসার বিরোধে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
ফরিদপুর শহরের ২নং কুঠিবাড়ি লাশকাটা ঘর সংলগ্ন বস্তি এলাকায় মাদক ব্যবসার বিরোধের জের ধরে রাজু শেখ (৩০) নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সোমবার (২ মার্চ) রাত দশটার দিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত রাজু ওই বস্তির লাভলু শেখের ছেলে। তার স্ত্রীসহ দুটি সন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার রাত দশটার দিকে শহরের ২নং কুঠিবাড়ি লাশকাটা ঘর সংলগ্ন বস্তি এলাকার বাড়ি থেকে নিহত রাজুকে ডেকে নিয়ে যায় এলাকার হৃদয়, রবিউল, স্বপ্ন, সাকি ও মারুফ। এরপর বাড়ির পাশেই তাকে ধরে নিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। বিষয়টি পাশের বাড়ির এক নারী দেখলে তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী নিশি জানান, বস্তির শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শিল্পীর মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়া এবং তাকে সেনাবাহিনীতে ধরিয়ে দেওয়ার সন্দেহে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সন্ত্রাসীরা। শিল্পীর মেয়ের জামাই হৃদয়, রবিউল, স্বপ্ন, সাকি ও মারুফ এই ঘটনা ঘটায়। শিল্পী আগের দিন আমাদের বাড়িতে এসে আমার স্বামীর কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে ২৫ হাজার টাকা পাবে। মূলত সে কোনো টাকা পাবে না। তারপরও তার সে পঁচিশ হাজার টাকা আমাদের কাছে দাবি করে।
নিশি আরো জানান, বস্তি এলাকায় শিল্পী সিন্ডিকেট করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। কিছুদিন আগে সেনাবাহিনী বিশেষ অভিযানে শিল্পীকে বিপুল মাদক ও নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার করে। তাদের ধারণা আমার স্বামী এবং দেবর ইব্রাহিম এই অভিযানে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন। এরপর থেকেই তারা আমাদের সাথে শত্রুতা শুরু করে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, মধ্যরাতে পুলিশ খবর পেয়ে লাশ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে। এরপর রাত একটার দিকে লাশের সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের ব্যাপারে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের সঙ্গে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো এজাহার পাইনি। আর এ ঘটনায় এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের পর এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তারা দ্রুত হৃদয় শেখসহ অন্য যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর