প্যারোলে মুক্তি মেলেনি, বাবার মরদেহ আনা হলো কারাগারে
জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় বাবার শেষ বিদায়টুকু দেখার সুযোগ পাননি কারাবন্দি মিলন মিয়া (৪৫)। শেষ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের গেটেই আনা হলো বাবার মরদেহ। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কারাগারের প্রধান ফটকে এই দৃশ্য দেখা যায়।
নিহত ফুল মিয়া কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার ছেলে মিলন মিয়া একটি রাজনৈতিক মামলায় বর্তমানে জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
পরিবার ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য মঙ্গলবারই জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে মিলন মিয়ার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। কিন্তু সেই আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে ভৈরব থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে ফুল মিয়ার মরদেহ জেলা কারাগারে নিয়ে আসা হয়।
মিলন মিয়ার চাচা মতিউর রহমান জানান, কারাগারের ভেতরে বাবার মরদেহ দেখে মিলন কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে বারবার মরদেহের ওপর লুটিয়ে পড়ছিল। প্যারোলে মুক্তির অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে অবশেষে মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। জীবনে এমন দৃশ্য আর দেখিনি।
স্বজনরা জানান, মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারাগারে পৌঁছালে মিলনের এক চাচাকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। বাকি স্বজনরা সাধারণ সাক্ষাতের সুযোগ পান।
মিলনের চাচাতো ভাই সালাম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সময়ে দাফন-কাফনে থাকার কথা, অথচ আমাদের ছুটতে হচ্ছে আদালত আর কারাগারে।
মিলন মিয়ার আইনজীবী আব্দুল মোমেন ভূইয়া তুহিন দাবি করেন, মিলনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি কোনো রাজনৈতিক পদেও নেই, কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামিও নন। পুলিশ তাকে সন্দেহজনকভাবে গ্রেপ্তার করেছে। এক মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাকে আবার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রীতেশ চাকমা বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো পত্র মোতাবেক কারাগারের গেটে মরদেহ দেখানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

মারুফ আহমেদ, কিশোরগঞ্জ