বাসর রাতে কনে বদলের অভিযোগ, কারাগারে বর
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে বাসর রাতে কনে পরিবর্তনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় বর রায়হান কবিরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। ঘটনাটি জেলাজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার রায়হান কবির ঘটকের মাধ্যমে রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডারা এলাকার এক তরুণীকে পছন্দ করেন। পারিবারিকভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কনেকে বরের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। বরপক্ষের অভিযোগ, বিয়ের রাতে কনের অতিরিক্ত সাজসজ্জা পরিষ্কার হওয়ার পর রায়হান বুঝতে পারেন, তাকে যে পাত্রী দেখানো হয়েছিল এটি সেই মেয়ে নন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরদিনই কনেকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এতে উভয় পরিবারের মধ্যে উত্তজনা সৃষ্টি হয়।
ঘটনার জেরে গত ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক বরপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এর পাল্টা হিসেবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবির কনের বাবা ও ঘটকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা করেন। রায়হানের পরিবারের দাবি, তারা ঘটকের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে, কনের বাবা জিয়ারুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছেলেপক্ষ আমার মেয়েকে দেখেই বিয়ে করেছে। মূলত ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তা না পাওয়ায় তারা এখন এমন ভিত্তিহীন নাটক সাজাচ্ছে।
ঘটক মোতালেব হোসেন কোনো ভিন্ন পাত্রী দেখানোর কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনার পরিস্থিতি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
বরপক্ষের আইনজীবী জয়নাল আবেদীন জানান, কনে বদল সংক্রান্ত এই অভিযোগের প্রকৃত সত্য আদালতেই উদঘাটিত হবে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। বর রায়হান কবির কারাগারে বন্দি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিচিত্র ঘটনাটি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে নেটিজেনরা ঘটনাটিকে কেউ প্রতারণা আবার কেউ যৌতুকের আইনি প্যাঁচ হিসেবে মন্তব্য করছেন।

এস কে সুজন, ঠাকুরগাঁও (পীরগঞ্জ-রানীশংকৈল)