জামায়াতের ডা. তাহেরের চেয়ে সম্পদে এগিয়ে বিএনপির কামরুল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের চেয়ে সম্পদের হিসাবে অনেক এগিয়ে আছেন বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদা। এমনকি জামায়াত প্রার্থীর চেয়ে তাঁর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণও প্রায় চারগুণ বেশি। জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া দুই প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
হলফনামা অনুযায়ী, বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদার মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি সাত লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৩ টাকা। পেশায় ব্যবসায়ী এই প্রার্থীর বার্ষিক আয় ৮০ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪৫ টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থই রয়েছে দুই কোটি ৮৬ লাখ ৬০ হাজার ৯১৪ টাকা, যা জামায়াত প্রার্থীর চেয়ে প্রায় চারগুণ বেশি। এ ছাড়া যানবাহন, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রসহ তাঁর মোট অস্থাবর সম্পদ আট কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি। তাঁর স্ত্রীর নামেও রয়েছে এক কোটি তিন লাখ ৮৫ হাজার ৮৬০ টাকার সম্পদ।
অন্যদিকে, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৮০ হাজার ১৯২ টাকা। তবে তাঁর স্ত্রী ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীর সম্পদ প্রার্থীর চেয়ে অনেক বেশি, যার পরিমাণ চার কোটি ৬৪ লাখ ২০ হাজার ৫৫৫ টাকা।
ডা. তাহেরের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ রয়েছে ৫১ লাখ আট হাজার ২২৪ টাকা। তাঁর স্ত্রীর নামে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট ও জমিসহ পাঁচ কোটি ৫০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে।
ডা. তাহেরের বিরুদ্ধে ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩৭টি মামলা হলেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ১৭টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাকিগুলো থেকে তিনি খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন। ২০০৮ সালে তাঁর সম্পদ এক কোটি দুই লাখ টাকা থাকলেও ১৭ বছর পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে তা কমে এক কোটি ৮০ হাজার টাকা হওয়ার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। তবে উপজেলা জামায়াত জানিয়েছে, রাজনৈতিক কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির ফলে এই তফাত হতে পারে।
এছাড়া, বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে দুটি রাজনৈতিক মামলা হলেও চলতি বছরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কামরুল হুদা দাবি করেছেন, তাঁর হলফনামার সব তথ্য সঠিক এবং কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি।

মনোয়ার হোসেন, কুমিল্লা (চৌদ্দগ্রাম)