বিড়িকাণ্ডের সেই জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা এবং ভোট প্রার্থনায় ধর্মের ব্যবহারের অভিযোগে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ফয়জুল হককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির বিচারিক কর্মকর্তা এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ রেজওয়ানা আফরিন এই আদেশ দেন।
নোটিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জানুয়ারি (বুধবার) রাতে রাজাপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনি উঠান বৈঠকে ফয়জুল হক ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সুখটান দেওয়া বিড়ির মধ্যেও যদি সে (ভোটার) ওই দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিয়ে আল্লার দ্বারে কবুল হয়ে যায়, এমনও হতে পারে পিছদের সব মাফ করে দিয়ে আল্লাহ তো ভালোও করে দিতে পারে।’
তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, এই বক্তব্য ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। সেখানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া, ধর্মের অপব্যবহার করে ভোট প্রার্থনা এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগে প্রচারণার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অপরাধে কেন তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না, তা আগামী ১২ জানুয়ারি (সোমবার) সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রার্থী ফয়জুল হক বলেন, আমার বক্তব্যটি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। একজন সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে আমাকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে কথা বলতে হয়। সমাজে দাঁড়িওয়ালা মানুষ যেমন আছেন, তেমনি দাঁড়ি ছাড়া মানুষও আছেন; আবার বিড়ি বা সিগারেট খান- এমন মানুষও আছেন। আমি বিশেষভাবে দোকানে বসে বিড়ি খাওয়া মানুষদের উদ্দেশে বলেছি- আপনারা বিড়ি টানতে টানতেই দাঁড়িপাল্লায় একটি ভোট চাইবেন।
ফয়জুল হক আরও বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নির্দিষ্ট সময়ে শোকজের জবাব দেব।

কে এম সবুজ, ঝালকাঠি