পাগলা মসজিদের বাক্সে দানের নতুন রেকর্ড
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স (সিন্দুক) ৩ মাস ২৭ দিন পর আবারও খোলা হয়েছে। আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া দিনভর গণনা শেষে মোট ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গেছে। এবার ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গেলেও তা গত আগস্ট মাসের ১২ কোটি ৯ লাখ টাকার রেকর্ড ভাঙতে পারেনি। তবে সব মিলিয়ে মসজিদের মোট দানের পরিমাণ এখন ১১৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। টাকার পাশাপাশি দানবাক্সে সোনা-রূপা এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
টাকা গণনার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে পাগলা মসজিদ ও মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মসজিদ কমিটির সদস্যসহ প্রায় পাঁচশ জনের একটি দল অংশ নেয়। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা পুরো প্রক্রিয়ার সার্বিক তদারকি ও নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার পক্ষে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ গণনার ফল নিশ্চিত করেন।
দানবাক্স থেকে পাওয়া এই অর্থ কেবল মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ নয়, বরং জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা এবং অসহায় মানুষের চিকিৎসাসহ নানা সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এছাড়া মানত হিসেবে পাওয়া গবাদি পশু ও অন্যান্য সামগ্রী প্রতিদিন আসরের নামাজের পর নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থও মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়।
উল্লেখ্য, পাগলা মসজিদকে কেন্দ্র করে এবার আন্তর্জাতিক মানের একটি দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’ নামের এই প্রকল্পে ৬০ হাজার মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারবেন। এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ কোটি টাকা।
এর আগে গত ১০ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন মসজিদটি পরিদর্শনকালে জানান, আধুনিক তুরস্কের নকশায় খুব শিগগিরই এখানে ১০তলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
আসলাম মোল্লা আরও জানান, দান থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ গরিব ও অসুস্থদের সহায়তায় ব্যয় করার পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার প্রস্তাবও বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই এই মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আদি রাকিব, কিশোরগঞ্জ (সদর-হোসেনপুর)