ইউপিডিএফের নারী সংগঠনের কর্মসূচিতে পিসিপির হামলা
ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত চার নারী সংগঠনের অবস্থান কর্মসূচিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (পিসিপি) নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কল্পনা চাকমাকে অপহরণের ঘটনায় দেওয়া তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় তদন্তের দাবিতে ওই নারী সংগঠনগুলো আজ মঙ্গলবার রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আজ মঙ্গলবার সকালে অবস্থান নেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কল্পনা চাকমাকে অপহরণের ঘটনা তদন্তে নতুন কমিটি গঠন এবং অপহরণের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে আজ সকালে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করে ইউপিডিএফ সমর্থিত চার নারী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ, ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, সাজেক নারীসমাজ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন। সমাবেশে দুই শতাধিক নারী অংশ নেন। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে জনসংহতি সমর্থিত (জেএসএস) পিসিপি ও যুব সমিতির কিছু নেতা গিয়ে নারী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড কেড়ে নেন এবং অংশগ্রহণকারীদের ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেন। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবিহ্বল নারীরা দৌড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নিরূপা চাকমা অভিযোগ করেছেন, ‘পিসিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি বাচ্চু ও সম্পাদক জুয়েল চাকমার নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে নারীদের ওপর হামলা হামলা চালানো হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হলো তারা প্রকৃতভাবে কল্পনা চাকমা অপহরণ ঘটনার বিচার চায় না। বরং শাসকগোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলা পিসিপির সাধারণ সম্পাদক রিন্টু চাকমা জানিয়েছেন, ‘তারা আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই রাঙামাটিতে প্রোগ্রাম করতে এসেছে। তাই আমরা বাধ্য হয়েছি ব্যবস্থা নিতে।’
রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রশীদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ইউপিডিএফ সমর্থিত নারী সংগঠনের কর্মসূচিতে জেএসএসের লোকজন হামলা চালিয়েছে শুনে আমি ফোর্স পাঠাই। কিন্তু ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ওরা চলে গেছে। ফলে আমরা কিছুই জানতে পারিনি। আর কেউ কোনো অভিযোগও করেনি।’

ফজলে এলাহী, রাঙামাটি