মতিঝিলে চাঁদাবাজি ও গুলিবর্ষণের মামলায় শুটার বাপ্পিসহ গ্রেপ্তার ৫
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় চাঁদাবাজি ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শুটার তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি এবং তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) এবং অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার অন্য চারজন হলেন—মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭), মো. মানিক কাজী (৫০) ও রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫)।
পুলিশ বলছে, রাজধানীর দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদারের অফিস লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবিতে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায়ও তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
মোহাম্মদ ওসমান গণি বলেন, গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে মতিঝিল বিভাগ। পরে তাদের দেওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় উত্তর কমলাপুর থেকে আরেক সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মোহাম্মদ ওসমান গণি আরও বলেন, গত ১৯ মে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদার ব্যবসায়ীর অফিস লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ করে। ১৫ মে একই ব্যবসায়ীর কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর তদন্তে তানিম রেজা বাপ্পি ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ জুলাই দিনগত রাতে দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড রিভলভারের গুলি, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা করা হয়েছে বলেও জানান ডিএমপির কর্মকর্তা ওসমান গণি।
ওসমান গনি আরও বলেন, তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি একজন অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন গুলিবর্ষণের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। গ্রেপ্তার তানিম রেজা বাপ্পির বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যা চেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
ডিএমপির এই অতিরিক্ত কমিশনার জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি তাদের অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং আরও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি)