ভাঙা সড়কে উল্টে গেল তিন ট্রাক, ১২ ঘণ্টা দুর্ভোগ
বাগেরহাটের মোংলার দ্বিগরাজ এলাকার ভাঙা ও খানাখন্দের মহাসড়কে তিনটি পণ্যবোঝাই ট্রাক উল্টে যায়। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১টায় এ ঘটনা ঘটে। ১২ ঘণ্টা পর আজ মঙ্গলবার দুপুর ১টায় ট্রাক তিনটি সরানো হয়।
১২ ঘণ্টায় সড়কের দুই পাশের পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আটকা পড়ে বাস, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন। দুর্ভোগে পড়েন বন্দর ব্যবহারকারীসহ বিভিন্ন মানুষ।
আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে মহাসড়কের ওপর উল্টে থাকা ট্রাক তিনটি উদ্ধারে কাজ শুরু করে মোংলা থানার পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দুপুর ১টার দিকে পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকারী দুটি যান ‘রেকার’ দিয়ে ট্রাক তিনটি সড়কের ওপর দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর খুলনাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যানবাহন মোংলা বন্দরের দিকে প্রবেশ করতে থাকে। পরে যানজট কিছুটা কমলে চলাচল করতে শুরু করে মোংলা থেকে খুলনা-ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের উদ্দেশ্যে আটকে থাকা যানবাহনগুলো।
রাস্তার ওপর উল্টে যাওয়া ট্রাকের একটিতে ছিল হিমায়িত চিংড়ি, একটিতে পাট ও অপরটিতে ছিল কনটেইনার পণ্য। তবে এতে অধিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে হিমায়িত চিংড়ির চালানটি।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ লুৎফর রহমান জানান, গভীর রাতে মংলা-খুলনা মহাসড়কের দ্বিগরাজ এলাকার ভাঙা-খানাখন্দের মধ্যে পড়ে পরপর তিনটি ট্রাক উল্টে যায়। পরে স্থানীয় কলকারখানা, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দুপুর ১টার দিকে পুলিশ সদস্যরা রেকার দিয়ে ট্রাক তিনটি সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল শুরু হয়।
এদিকে ঘটনার পর দীর্ঘ প্রায় ১১ ঘণ্টার পর কোনো উদ্ধারকারী যান ও লোকবল ছাড়াই ঘটনাস্থলে আসেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ বাগেরহাটের সহকারী প্রকৌশলী এস এম আসাদুজ্জামান। অনেক বিলম্বে আসায় তিনি স্থানীয় লোকজনের তোপের মুখে পড়েন। এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মোংলা-খুলনা মহাসড়কের মোংলা অংশের প্রায় ছয় কিলোমিটার রাস্তা খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এরই মধ্যে এ কাজের দরপত্র আহ্বান হয়ে গেছে। খুব দ্রুতই ঠিকাদার নিয়োগ করে নতুনভাবে সড়কটি মেরামত করা হবে।’

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা