বনদস্যু ইলিয়াস ও মজনু বাহিনীর ৭ সদস্যের আত্মসমর্পণ শুক্রবার
সুন্দরবনের জেলে-বাওয়ালিদের কাছে আতঙ্ক বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর সদস্যদের আত্মসমর্পণের পর এবার দস্যু বাহিনীর আরো দুই সদস্য আত্মসমর্পণ করছেন। দুই বাহিনীর সাত সদস্য সরকারের কাছে সাধারণ ক্ষমা চেয়ে দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চেয়েছেন।
আগামী শুক্রবার সকালে মোংলা বন্দরের বিএফডিসি জেটিতে বাহিনীপ্রধান ইলিয়াছ ও মজনু তাঁদের সহযোগীদের নিয়ে অস্ত্রশস্ত্রসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। র্যাব ৮-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদুল আলম এই তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে মোংলায় গত ৩১ মে ৫২টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও পাঁচ হাজার গুলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন সুন্দরবনের বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান কাদের মাস্টারসহ ১০ দস্যু। আর দস্যুদের এ আত্মসমর্পণ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন ঢাকার সাংবাদিক মোহসীন উল হাকিম ও মোংলার নিজাম উদ্দিন। তাঁদের আহ্বানে সাড়া দিয়েই একের পর এক দস্যু দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করছেন।
র্যাব ৮-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরিদুল আলম জানান, সুন্দরবনের বনদস্যু ইলিয়াছ ও মজনু বাহিনী দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য এরই মধ্যে তাঁদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ র্যাবের কাছে জমা দিয়ে র্যাবের হেফাজতে রয়েছেন। বুধবার সকালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বিএফডিসি জেটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও র্যাবের মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে এ দস্যুদের আত্মসমর্পণের কথা থাকলে তা পরিবর্তন হয়েছে। আগামী শুক্রবার পূর্বঘোষিত একই স্থানে ইলিয়াছ ও মজনু বাহিনীর সাত সদস্য ১৭টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২০০ গুলি জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন।
বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের একসময়ের ত্রাস বনদস্যু রাজু বাহিনীর প্রধান রাজু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় টিকতে না পেরে ভারতে আশ্রয় নেন। তখন ওই বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ইলিয়াস নিজ নামে বাহিনী গঠন করেন। আর সুন্দরবনে পশ্চিম এলাকায় বর্তমানে মূর্তিমান আতঙ্ক মজনু বাহিনী।

রবিউল ইসলাম, বাগেরহাট
আবু হোসাইন সুমন, মোংলা