রামপালে যাবে ইউনেসকো
বাগেরহাটের রামপালে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে যাবে ইউনেসকো। জাতিসংঘের এ সংস্থার ওই এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে, সুন্দরবনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাব্য প্রভাবগুলো যাচাই করা।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে, সুন্দরবন ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের মধ্যে পড়ে বলেই সেখানে পরিদর্শনে যাচ্ছেন সংস্থাটির প্রতিনিধিরা।
এ ব্যাপারে প্রধান বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা ইউনুস আলী বলেন, ‘ইউনেসকো চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই তাদের দল পাঠাতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা অনুরোধ করেছি মার্চে আসার জন্য।’
ইউনুস আলী বলেন, ‘প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাব নিরূপণ করতে আসবে ওই প্রতিনিধিদল। একই সঙ্গে সম্ভাব্য প্রভাব কমানোর জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাও দেখবে ইউনেসকো।
ইউনেসকোর ঢাকা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে অথবা মার্চের শুরুর দিকে ওই প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসবে।
২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবে গেলে ছড়িয়ে পড়ে তেল। এর প্রভাব পড়ছে কি না তাও ইউনেসকোর দলটি দেখবে বলে জানিয়েছেন ইউনুস আলী।
প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে সুন্দরবনের অবস্থান। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে তা নির্মাণের কাজ চলছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এরই মধ্যে সতর্ক করে দিয়েছেন, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে সুবিধার চেয়ে ক্ষতিই হবে বেশি। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফলে ধ্বংস হবে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী বলেছেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফলে সুন্দরবনকে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের মুখোমুখি হতে হবে। গাছের বেড়ে ওঠা, প্রাণীর জীবনে, পাখির জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।’

অনলাইন ডেস্ক