টিউশনির টাকায় নির্বাচন করবেন জামায়াত প্রার্থী, বিএনপি প্রার্থী কোটিপতি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে নির্বাচনি প্রচারণার আগেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দুই প্রধান প্রার্থীর বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রা ও সম্পদের খতিয়ান। প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা ও আয়-ব্যয় বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোক্তার আলী তাঁর শিক্ষকতার সঞ্চয় দিয়ে ভোট করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ একজন সফল ব্যবসায়ী ও কোটিপতি।
টিউশনির টাকায় মোক্তার আলীর লড়াই
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোক্তার আলী একসময় অধ্যাপনা পেশায় যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তিনি গৃহশিক্ষকতা বা টিউশনির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাঁর হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনি ব্যয়ের একটি বড় অংশ আসবে টিউশনি থেকে উপার্জিত অর্থ থেকে। এছাড়া ব্যয়ের ঘাটতি পূরণে তিনি তাঁর কন্যা ও দুই পুত্রের কাছ থেকে ধার নেবেন। পাশাপাশি এলাকার তিনজন শুভাকাঙ্ক্ষী তাঁকে ১২ লাখ টাকা স্বেচ্ছায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সম্পদমূলে পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে তাঁর মাত্র ২৮ দশমিক ৮২ শতক কৃষি জমি এবং সাড়ে সাত শতক জমির ওপর একটি বসতবাড়ি রয়েছে।
কোটিপতি প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ
অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ তাঁর নির্বাচনি ব্যয় সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নির্বাহ করবেন। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর ও পরিবারের নামে মোটি আট কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৭ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক জমা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও এফডিআরে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। ব্যবসা থেকে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা এবং বাড়ি ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ভাড়া থেকে ১৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। ২০২৫-২৬ করবর্ষে তিনি ও তাঁর স্ত্রী মিলে প্রায় ১৮ লাখ টাকা আয়কর দিয়েছেন। তাঁর ছয় কোটি ৩১ লাখ ৯১ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি ব্যবহারের জন্য দুটি কার, একটি মাইক্রোবাস ও একটি জিপ রয়েছে।
একই আসনের দুই প্রার্থীর এমন আকাশ-পাতাল আর্থিক ব্যবধান নিয়ে কেশবপুরের ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। মোক্তার আলীর ‘সাধারণ জীবন’ বনাম আবুল হোসেন আজাদের ‘ব্যবসায়িক প্রভাব’—ভোটের মাঠে কার কৌশল বেশি কার্যকর হয়, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।
উল্লেখ্য, উভয় প্রার্থীই স্বচ্ছতার সঙ্গে তথ্য দাখিল করেছেন এবং কারো কোনো ব্যাংক ঋণ নেই।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)