‘হামার কিছু নাই বাহে, গরম কাপড় নাই’
‘হামার কিছু নাই বাহে, গরম কাপড় নাই। ঠান্ডায় বাঁচি না, বাধ, রাস্তায় থাকি। কেউ হামার খোঁজ নেয় না।’
কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভেলাকোপা গড়েরপাড় এলাকার ছবরন বেওয়া (৬০)। এতিম পাঁচ নাতি-নাতনি নিয়ে ছাত্রদের মেসে রান্না করে কোনো রকমে সংসার চালান তিনি। শীতের কাপড় কেনাটা তাঁর কাছে দুঃস্বপ্নের মতো।
কুড়িগ্রামে শীত আকস্মিক বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ছবরন বেওয়ার মতো হতদরিদ্র হাজারো মানুষ।
দুইদিন ধরে জেলায় ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস।
উত্তরীয় হিমেল হওয়ায় ঠান্ডার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় কাজে যেতে পারছে না শ্রমজীবী মানুষরা। অনেকে কাজের সন্ধানে বের হচ্ছেন। কিন্তু শীতের মধ্যে কোথাও কাজ জুটছে না তাঁদের।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হরিকেশ এলাকার কৃষিশ্রমিক আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। দিন আনি, দিন খাই। ঠান্ডা হলেও উপায় নাই। কাজে না গেলে না খেয়ে থাকতে হবে। এ জন্য জমির রোয়া লাগানোর কাজ করছি। কিন্তু থাকা যায় না। একটুখানি কাজ করে আবার উপরে উঠতে হয়।’
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের কৃষক জব্বার আলী বলেন, ‘বোরো মৌসুম শুরু হয়েছে। কিন্তু জমি তৈরি করেও চারা লাগাতে পারছি না। শ্রমিক পাওয়া যায় না। চারা রোপণ করতে দেরি হচ্ছে।’
এ বিষয়ে কথা হয় কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শওকত আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, কৃষকরা জমিতে বোরো চারা লাগাতে শুরু করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় চারা লাগানোর কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে দুই-চারদিন দেরিতে চারা লাগালেও ফসলের কোনো ক্ষতি হবে না।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) খান মো. নুরুল আমিন জানান, ‘হঠাৎ করে শীতের মাত্রা বেড়ে গেছে। আমরা এরই মধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে প্রায় ৩০ হাজার কম্বল বিতরণ করেছি। এ অবস্থা চলতে থাকলে নতুন করে বরাদ্দ চাওয়া হবে।’
কুড়িগ্রাম আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, রোববার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ অবস্থা আরো দুই-একদিন চলতে পারে।

হাসিবুর রহমান হাসিব, কুড়িগ্রাম