তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, তোলপাড়
ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন ওই কলেজের সাবেক এক ছাত্রী। তিনি বর্তমানে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে সাবেক এই শিক্ষার্থী কলেজের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ঝিলাম জিয়া, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. হারুনুর রশীদ ও অ্যান্ডোক্রাইনোলজি ডায়াবেটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কে এম নাহিদুল হকের বিরুদ্ধে সরাসরি যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন।
ফেসবুকে ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের ছাত্রছাত্রীর ক্লোজ গ্রুপে গত শুক্রবার তিনি পোস্টটি দেন। পরে সেটি পাবলিক হয়ে যায়। তারপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে। এদিকে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই তিন শিক্ষক।
এ ব্যাপারে ওই মেডিকেল কলেজের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ঝিলাম জিয়া বলেন, ‘সে (সাবেক ছাত্রী) এটা কেন লিখেছে তা আমি পরিষ্কার না। ওর সঙ্গে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।’
একজন শিক্ষক হিসেবে ছাত্রীকে এহেন অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব যৌক্তিক কি না? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি ইতস্তত করে ফোন রেখে দেন।
আরেক শিক্ষক অ্যান্ডোক্রাইনোলজি ডায়াবেটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কে এম নাহিদুল হক বলেন, ‘আমার চেম্বারে আমার সহযোগী হিসেবে কাজ করতে চেয়েছিল মেয়েটি। কিন্তু আমি রাজি না হওয়ায় সে আমার নামে এসব কথা ফেসবুকে লিখেছে। আমি ওই মেয়েটির বাবাকে বিষয়টি জানিয়েছি।’
আরেক শিক্ষক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. হারুনুর রশীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জহিরুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘ওই ছাত্রী ফেসবুকে যে স্ট্যাটাস দিয়েছে সে বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। তাৎক্ষণিকভাবে ওই ছাত্রীর বাবার সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এ কারণেই সে এসব স্ট্যাটাস দিয়েছে।’
ডা. জহিরুল আরো বলেন, ‘তার পরও ওই ছাত্রীর বাবাকে বলেছি, ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আমার কাছে আসতে। তাঁরা এলে সামনাসামনি শুনে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখব। যদি শিক্ষকরা কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর