জ্বর নিয়ে মাঠে পড়ে ছিলেন, অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি, অবশেষে মৃত্যু
দেরিতে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানো এবং মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাফলতির কারণে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, অ্যাম্বুলেন্স দেরিতে পৌঁছানোয় বিনা চিকিৎসায় এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মৃত রোগীর নাম মো. ছামাদ মণ্ডল। তাঁর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার খাজুরিয়া গ্রামে বলে জানা গেছে।
কামারখালী বাজার এলাকার বাসিন্দা মোহম্মদ আলী জানান, ওই ব্যক্তি কামারখালী এলাকায় এক বাড়ি কাজের জন্য এসেছিলেন। জ্বর বেশি থাকায় তিনি আজ সকালে একটি ভ্যানে বাড়িতে রওনা দিয়েছিলেন। পথিমধ্যে তাঁর জ্বর বেশি দেখা দিলে ভ্যানচালক তাঁকে রাস্তার পাশে রেখে চলে যায়। এরপর সকাল থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে মাঝিবাড়ি গোল্ডেন জুট মিলের পাশে একটি মাঠে ছামাদ মণ্ডল জ্বর নিয়ে পড়ে থাকেন। এ সময় তাঁর করোনা হয়েছে এ ভয়ে তাঁর কাছে কেউ না গিয়ে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে জ্বরের ওষুধ দেওয়া হয়। এরপর তারা মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বিষয়টি জানালেও তারা দেরি করে সেখানে উপস্থিত হয় অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে। এরপর সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু বলার নেই, এটা সত্যিই দুঃখজনক একটি বিষয়। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গিয়ে বার বার বিষয়টি জানালেও তারা তেমনভাবে গুরুত্ব দিল না। একাধিকবার তাদের সহযোগিতা চেয়েও আমরা পাইনি।'
মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তফা মোনায়ার বলেন, ‘আমি বলবো এটা কুইক রেসপন্স যেভাবে হওয়ার কথা ছিল, সেটা হয়নি। মৃত্যুর ঘটনার প্রধান কারণ করোনা রোগীর জন্য জেলায় বরাদ্দকৃত অ্যাম্বুলেন্সটি দেরিতে পৌঁছানো। তারপরও প্রশাসন থেকে সেখানে গিয়ে তাকে ওষুধ দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিক যদি ফরিদপুর মেডিকেল থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি আসতো, তাহলে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটতো না।'
মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. রেজা বলেন, ‘এ ঘটনায় আমাদের কোনো গাফলতি নেই। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। এখানে ফরিদপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি দেরিতে পৌঁছানোর কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিজেদের অ্যাম্বুলেন্সটি রয়েছে, কিন্তু সেটি হাসপাতালের সাধারণ রোগীর জন্য ব্যবহৃত হয়, সেটি আমি কী করে দেই। সেটি দিলে ১৪ দিন আমাদের ওই অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করতে পারব না। এ জন্যই ফরিদপুর থেকে করোনা রোগীর জন্য জেলায় বরাদ্দকৃত অ্যাম্বুলেন্সটি চেয়েছিলাম। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স চেয়েছি। রাত সাড়ে সাতটায় সেটি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।'
অ্যাম্বুলেন্সের চালককে না পাওয়া বিলম্বের একটি বড় কারণ বলে জানান ডা. মো. রেজা।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. জুয়েল বলেন, ‘আমাদের কাছে রাত পৌনে ১১টার দিকে রোগীটি আসে। আমরা মৃত অবস্থায় পাই তাকে। নিয়ম মেনেই ডেডবডি রুমে রাখা হয়েছে। শনিবার (আজ) সকালে তার নমুনা সংগ্রহ করা হবে।'

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর