কবি সুফিয়া কামালের জন্মবার্ষিকী আজ
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক প্রথিতযশা কবি, মানবতাবাদী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণের অগ্রদূত কবি সুফিয়া কামালের ১১৫তম জন্মবার্ষিকী আজ শনিবার (২০ জুন)। ১৯১১ সালের এই দিনে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বরিশাল জেলার শায়েস্তাবাদে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সৈয়দ আব্দুল বারী এবং মাতা সাবেরা খাতুন। রক্ষণশীল পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ তাঁর খুব সীমিত ছিল, কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি, মেধা ও আত্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে।
সুফিয়া কামাল ছিলেন মানবতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে এবং যাবতীয় অন্যায়, দুর্নীতি ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার একজন সমাজসেবী ও নারীনেত্রী। তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক।
শৈশব থেকেই সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণ ছিল। তিনি নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার সংস্পর্শে এসে নারীর শিক্ষা, আত্মমর্যাদা ও সমাজ পরিবর্তনের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন। তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু অল্প বয়সেই। তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা ছিল ‘বাসন্তী’। পরবর্তীতে ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁঝের মায়া’, যা বাংলা সাহিত্যে তাঁর একটি শক্তিশালী আবির্ভাবের ঘোষণা দেয়।
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। বাংলার মানুষ তাকে ‘জননী সাহসিকা’ উপাধিতে ভূষিত করে। সাহিত্যে তার সৃজনশীলতা ছিল অবিস্মরণীয়। শিশুতোষ রচনা ছাড়াও দেশ, প্রকৃতি, গণতন্ত্র, সমাজ সংস্কার এবং নারী মুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখনি আজও পাঠককে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করে।
তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে সাঁঝের মায়া, মায়া কাজল, মন ও জীবন, শান্তি ও প্রার্থনা, উদাত্ত পৃথিবী, দিওয়ান, মোর জাদুদের সমাধি পরে প্রভৃতি। গল্পগ্রন্থ ‘কেয়ার কাঁটা’। ভ্রমণকাহিনি ‘সোভিয়েত দিনগুলি’। স্মৃতিকথা ‘একাত্তরের ডায়েরি’।
সুফিয়া কামাল ৫০টিরও অধিক পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, একুশে পদক, বাংলা একাডেমি, বেগম রোকেয়া পদক, সোভিয়েত লেনিন, জাতীয় কবিতা পুরস্কার উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৯ সালের ২০ নভেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ফিচার ডেস্ক