বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্য নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করছে অস্ট্রেলিয়া
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রবেশ, ভিসার ধরন পরিবর্তনের সুযোগ (ভিসা হপিং) বন্ধ এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারীদের বিষয়ে কঠোর পরিকল্পনা সামনে এনেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
নতুন পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য আনার সুযোগেও সীমাবদ্ধতা আসতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্তাবিত এই নীতিগুলো এখনই চূড়ান্ত কার্যকর আইন হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। সরকারের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বিধিমালার মাধ্যমেই সব বিস্তারিত স্পষ্ট হবে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন (এনওএম) উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা। অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অভিবাসনের হার ইতোমধ্যেই কমতে শুরু করেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৬ হাজারে, যা আগের ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার এবং ২০২২–২৩ অর্থবছরে ছিল রেকর্ড ৫ লাখ ৩৮ হাজার।
সরকারের নতুন পরিকল্পনায় ভিসা হপিং বা ধারাবাহিকভাবে এক অস্থায়ী ভিসা থেকে অন্য অস্থায়ী ভিসায় স্থানান্তরের পথ বন্ধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করা (ওভারস্টে) প্রায় ৭৭ হাজার মানুষের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ান বর্ডার ফোর্সের (এবিএফ) অভিযান ও তদারকি জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ঢালাওভাবে অভিবাসন কমানোর বিষয়ে সতর্কবার্তাও দেওয়া হচ্ছে।
হোম অ্যাফেয়ার্স মিনিস্টার টনি বার্ক বলেন, মাইগ্রেশন অতিরিক্ত কমিয়ে দিলে নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো দেশের মূল অর্থনৈতিক খাতগুলো কর্মীসংকটে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই কৌশলগত খাতের চাহিদার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

রাশেদ শ্রাবন, অস্ট্রেলিয়া