শিশুদের সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ি আনছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেমিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর চ্যাটবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। নতুন প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এসব সেবা ব্যবহারে আনা হচ্ছে একাধিক স্তরের কড়াকড়ি।
আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নিজেদের বার্ষিক নীতি নির্ধারণী বক্তৃতায় এই খসড়া পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরবেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে পাওয়া খসড়া নথি সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের জন্য বিপজ্জনক এবং আসক্তিকর ফিচার, যেমন— একটানা স্ক্রলিং নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই ‘ইইউ কিডস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বার্ষিক বৈশ্বিক আয়ের সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে।
১৫ বছর পূর্ণ হওয়া কিশোর-কিশোরীরা সোশ্যাল মিডিয়া, এআই চ্যাটবট এবং গেমিং প্ল্যাটফর্মে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবে।
১৩ থেকে ১৪ বছর : এই বয়সী কিশোর-কিশোরীদের অভিভাবকের তদারকিতে সীমিত ফিচার ও স্ক্রিন টাইম সীমা নির্ধারণপূর্বক প্রাথমিক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেওয়া হবে।
৩ থেকে ১৩ বছর : শুধুমাত্র অভিভাবকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত ‘শিশু-বান্ধব’ নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবে।
৩ বছরের কম : ৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সব ধরনের অনলাইন সেবার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
ইইউ ইতোমধ্যেই তাদের ডিজিটাল সার্ভিস অ্যাক্টের অধীনে মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম) এবং টিকটককে আসক্তিকর ডিজাইন পরিবর্তন করতে বলেছিল। তবে কমিশন মনে করে, বিদ্যমান নিয়ম শিশুদের নিরাপত্তায় যথেষ্ট নয়।
যদিও ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও গ্রিসের মতো ইইউ সদস্য দেশগুলো এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে ডিজিটাল অধিকার সংস্থাগুলো বয়স যাচাই প্রক্রিয়ার প্রাইভেসি ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাগুলোর মতে, কেবল বয়সসীমা বেঁধে না দিয়ে প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্ষতিকর অ্যালগরিদম ও ফিচার নিরাপদ করাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক