ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও হামাস নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞায় সম্মত ইইউ
ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং হামাসের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে সম্মত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
স্থানীয় সময় সোমবার (১১ মে) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল। হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের সরকার এতদিন এ পদক্ষেপ আটকে রেখেছিল।
নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগিয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সেই ভেটো তুলে নেওয়া হয়। খবর আল জাজিরার।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় তিনজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং চারটি বসতি-সংক্রান্ত সংগঠন রয়েছে। তবে এখনও তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় হয়ে গিয়েছিল। চরমপন্থা ও সহিংসতার পরিণতি রয়েছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইইউ পশ্চিম তীরে উগ্র ও সহিংস বসতি সম্প্রসারণে জড়িত প্রধান ইসরায়েলি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
জ্যঁ-নোয়েল বলেন, এই অত্যন্ত গুরুতর ও অসহনীয় কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
ইসরায়েল এই নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির দাবি, দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদিদের বসতি স্থাপনের অধিকার রয়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব বসতি অবৈধ।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই ইসরায়েলি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
গিদিওন সার আরও বলেন, নিজেদের ঐতিহাসিক ভূখণ্ডে ইহুদিদের বসতি স্থাপনের অধিকারের পক্ষে ইসরায়েল অতীতেও ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
দেশটির কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ইইউকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে আখ্যা দেন।
বেন গভির বলেন, আমাদের শত্রুরা যখন হামলা চালিয়ে ইহুদিদের হত্যা করছে, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন আত্মরক্ষাকারীদের হাত বেঁধে দিতে চাইছে।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারো জানান, একই বৈঠকে হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলায় প্রায় ১২০০ মানুষ নিহত হন এবং ২৪০ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল।
বারো বলেন, এটি এমন একটি সংগঠন, যাদের অবশ্যই নিরস্ত্র করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ থেকে দূরে রাখতে হবে।
তবে হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসেম নাইম ইইউর এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ভণ্ডামি ও বর্ণবাদ বলে উল্লেখ করেছেন।
বাসেম নাইম রয়টার্সকে বলেন, ইইউ এমন একটি রাষ্ট্রকে, যারা গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের অভিযোগের মুখে, আত্মরক্ষাকারী পক্ষের সঙ্গে একই কাতারে দাঁড় করিয়েছে।
পূর্ব জেরুজালেম বাদে দখলকৃত পশ্চিম তীরে বর্তমানে পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন। সেখানে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ অন্তত ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে সেখানে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
যদিও বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইইউ ঐকমত্যে পৌঁছেছে, তবুও ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করার মতো বড় পদক্ষেপে এখনও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একমত হওয়া যায়নি।
তবে হাঙ্গেরির আপত্তি সরে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের গতি বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক