টাইফুন বাভি : উত্তর কোরিয়ায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি কিম জং উনের
উত্তর কোরিয়ার দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’। এর প্রভাবে দেশটিতে ভারী বৃষ্টিপাত ও প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন। দুর্বল অবকাঠামো ও ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে বিচ্ছিন্ন এই দেশটিতে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সাধারণত ব্যাপক ও মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনে। খবর এএফপির।
পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদপত্র ‘রোদং সিনমুনের’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ও আগামীকাল বুধবারের মধ্যে টাইফুনটি পীত সাগর (ইয়েলো সি) হয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় অঞ্চল অতিক্রম করার আগে দুর্বল হয়ে লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। তবে এর প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর ইতোমধ্যে ভারী বর্ষণ ও প্রবল বাতাসের সতর্কতা জারি করেছে। দেশের সকল কর্মকর্তা ও শ্রমিককে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থেকে ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কিম জং উন।
খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার উত্তর ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৬০ মিলিমিটার তীব্র বর্ষণসহ মোট ৮০ থেকে ১২০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে ১৫০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির পাশাপাশি পশ্চিম উপকূল ও অভ্যন্তরীণ কিছু এলাকায় প্রতি সেকেন্ডে ১০ থেকে ১৫ মিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, গত সপ্তাহ থেকেই দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করেছে উত্তর কোরিয়া।
এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়াতেও প্রবল বৃষ্টিপাত আঘাত হেনেছে, যার ফলে কিছু কিছু এলাকায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় চুংচেওং প্রদেশের শত শত বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেকে বন্যার পানিতে আটকা পড়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার সম্প্রচার মাধ্যম কেবিএসের তথ্যমতে, দক্ষিণাঞ্চলীয় গিয়ংসাং প্রদেশে নদীর স্রোতে ভেসে গিয়ে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ নিখোঁজ হয়েছেন। সিউলের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত পুরো দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণের জিওল্লা প্রদেশে সবচেয়ে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া ঘন ঘন রূপ পরিবর্তন করছে। গত বছরের গ্রীষ্মকালটি ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসের উষ্ণতম সময় এবং চলতি বছরের জুনে দুই কোরিয়াই তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে গরম পার করেছে। এর ওপর এ বছর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক উষ্ণায়ন প্রক্রিয়া ‘এল নিনোর’ প্রত্যাবর্তনের ফলে এশিয়ার বিভিন্ন অংশে তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা এবং অতিবৃষ্টির ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।
উত্তর কোরিয়ায় এমনিতেই দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অধিকাংশ বাসিন্দার ঘরে কোনো এয়ার কন্ডিশনিংয়ের সুবিধা নেই। এর আগে ২০২৪ সালেও উত্তর কোরিয়ার উত্তরাঞ্চল মারাত্মক বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল, এতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হতে পারে বলে দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমগুলো দাবি করেছিল। যদিও পিয়ংইয়ং সে সময় এই অনুমিত হিসাবকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক