এক সপ্তাহের দ্বিতীয়বার দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়, অন্ধকারে কিউবা
এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে কিউবা। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড বিকল হয়ে পুরো দেশ অন্ধকারে ডুবে যায়।
দেশটির রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন ইলেকট্রিকা দে কিউবা জানায়, বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হয়। তবে কী কারণে গ্রিড বিকল হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। খবর আল জাজিরার।
গত সোমবারও (৬ জুলাই) দেশব্যাপী একই ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছিল। চলতি বছরে এটি কিউবার চতুর্থ জাতীয় ব্ল্যাকআউট। এর আগে মার্চ মাসেও দুটি বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দেশটির অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে আধুনিকায়ন হয়নি।
এদিকে জানুয়ারি থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার জ্বালানি আমদানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। একই সঙ্গে কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধেও শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়।
কিউবার প্রয়োজনীয় তেলের মাত্র ৪০ শতাংশ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। বাকি জ্বালানি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তবে নিষেধাজ্ঞার পর থেকে কিউবায় মাত্র একটি রুশ তেলবাহী জাহাজ পৌঁছেছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য জরুরি জনসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানি সংকট ও নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য কিউবা সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনাই দায়ী।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কিউবা সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। চীনের সহায়তায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে দেশটির মোট জ্বালানি চাহিদার মাত্র ১৮ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক