সুপার টাইফুন ‘বাভি’র তাণ্ডবে কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ
শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’ আঘাত হেনেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে। ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার বেগের স্থায়ী বাতাস এবং ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, টাইফুনটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এর প্রভাবে প্রায় ১১ মিটার (৩৫ ফুট) উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হতে পারে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, ঝড়টি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে সক্ষম। খবর বিবিসির।
নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলের জনবসতিপূর্ণ রোটা দ্বীপে টাইফুনটি সরাসরি আঘাত হেনেছে। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং জানিয়েছে, আবহাওয়ার দ্রুত অবনতি হওয়ায় বাইরে বের হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
রোটার মেয়রের কার্যালয়ের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, প্রবল বাতাস ও বন্যার কারণে অনেক স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, সাইপান দ্বীপের বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারের বেশি বেগে ঝড়ো হাওয়া রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আজ সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরের আগে বাতাসের গতি টাইফুনের মাত্রার নিচে নামার সম্ভাবনা নেই এবং মধ্যরাতের আগ পর্যন্ত এটি শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড় হিসেবে বিরাজ করতে পারে।
প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার জনসংখ্যার পর্যটননির্ভর দ্বীপ গুয়ামে পাঁচটি স্কুলে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০০ মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি আশ্রয়কেন্দ্র ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় মানুষকে অন্য কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে।
গুয়ামের রেস্তোরাঁ মালিক পিঙ্কি কুবাকুব জানান, দোকানের জানালা রক্ষায় তিনি প্রায় ৫০০ ডলার ব্যয়ে প্লাইউড লাগিয়েছেন।
পিঙ্কি বলেন, এখন ব্যবসা বন্ধ থাকলে বড় ক্ষতির মুখে পড়ব। যা আয় করছি, তা দিয়ে শুধু ভাড়া, ইউটিলিটি বিল, কর্মীদের বেতন ও সরঞ্জামের খরচ চলছে। এখনও নিজের জন্য কোনো আয় করতে পারিনি।
অন্যদিকে, জাপানি পর্যটক মিকু সাকুরাই জানান, টাইফুনের কারণে তার টোকিওগামী ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
মিকু বলেন, ঝড় আসার সময় আমরা হোটেলেই থাকব। সত্যিই খুব ভয় লাগছে।
মার্কিন জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) বাভিকে সুপার টাইফুন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাসবিশিষ্ট ঝড়কে সুপার টাইফুন বলা হয়, যার ধ্বংসক্ষমতা আটলান্টিক অঞ্চলের ক্যাটাগরি-৪ বা ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ছে, ফলে শক্তিশালী টাইফুনের সংখ্যা ও তীব্রতা উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া চলমান শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি প্রশান্ত মহাসাগরে আরও বেশি শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে।
উল্লেখ্য, গত এক দশকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূখণ্ডে আঘাত হানা ১১তম ক্যাটাগরি-৪ বা ক্যাটাগরি-৫ শক্তির ঘূর্ণিঝড়, যা আগের ৫৭ বছরের মোট সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক