ধোয়া হলো পবিত্র কাবাঘর
দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রীতি অনুযায়ী এ বছরও মোহররম মাসের ১৫ তারিখে পবিত্র কাবাঘর ধোয়ার কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তবে মহররম মাস ছাড়া বছরের অন্য সময়ও কাবাঘর ধৌতকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) ১৫ মোহররম ১৪৪৮ হিজরি সালের ফজর নামাজের পর কাবাঘরের ভেতরের অংশে ধোয়ামোছার কাজ করা হয়। এজন্য জমজমের পানি, খাঁটি গোলাপজল এবং উন্নত মানের সুগন্ধি ‘উদ’ ও কস্তুরি ব্যবহার করা হয়।
ধোয়ার জন্য কাবাঘরের ভেতরে প্রবেশের আগে বা পরে একবার নফল তাওয়াফ এবং দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা হয়। প্রথমে গোলাপের সুগন্ধিযুক্ত জমজমের পানি মেঝেতে ঢালা হয়, তারপর খালি হাতে খেজুরপাতা দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। পরিষ্কারের পর মেঝে ও দেওয়াল কোমল সাদা কাপড় এবং উন্নত মানের টিস্যু দিয়ে মোছা হয়। কাবা শরিফ ধোয়ার সময় প্রায় দুই ঘণ্টা দরজা খোলা রাখা হয়। মূলত প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুস্মরণে এ পবিত্র কাজটি বড় উৎসব হিসেবে পালন করা হয়। ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে যখন রাসুল (সা.)-এর নেতৃত্বে মুসলমানরা মক্কা বিজয় করেছিল, তখন তিনি মহান আল্লাহর পবিত্র ঘর ধৌত করেছিলেন। কাবার গায়ে নতুন গিলাফ পরানো হয় মোহররম মাসের শুরুতে।
সৌদি আরবের বাদশা খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন কিং সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের পক্ষে মক্কা অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশআল বিন আবদুল আজিজ পবিত্র কাবাঘর ধোয়ার অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন। বেশ কয়েকজন রাজপুত্র, সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিকও এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ ছাড়া মসজিদুল হারামের গ্র্যান্ড ইমাম শায়খ আব্দুর রহমান আল সুদাইস, ধর্মীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, বিশেষ জরুরি বাহিনীর প্রধান এবং হজ নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডার ও অন্য নিরাপত্তারক্ষীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তখন বাইরে বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় ছিল।

কামাল পারভেজ অভি, মক্কা