সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলা ও স্থল অভিযান, আফগানিস্তানে হতাহত বহু
আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী কয়েকটি প্রদেশে বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালিয়েছে পাকিস্তান। স্থানীয় সময় রোববার (২৮ জুন) পরিচালিত এই অভিযানে বেশকয়েকজন মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি শতাধিক হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার।
তালেবান প্রশাসন পাকিস্তানের এ হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত কাজ’, ‘অপরাধ’ এবং ‘নৃশংসতা’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবিসি পশতুকে তালেবান কর্মকর্তারা জানান, হামলায় নারী-শিশুসহ বেসামরিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিহত-আহতের সংখ্যা ১০০ জনেরও বেশি। খবর বিবিসির।
অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতা উল্লাহ তারার দাবি করেছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসীদের আস্তানা লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে ২৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে নিরীহ মানুষের ওপর সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে আশ্রয় নেওয়া জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তবে তালেবান সরকার বরাবরের মতোই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাল্টা কাবুলের দাবি, পাকিস্তান প্রায়ই বিনা উসকানিতে সীমান্তে হামলা চালায়, যাতে সাধারণ মানুষ নিহত হন। যদিও ইসলামাবাদের বক্তব্য, তারা কেবল সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যবস্তু করে অভিযান পরিচালনা করে।
গত বছরের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। কিন্তু অতীতের অন্যান্য যুদ্ধবিরতির মতো সেটিও টেকেনি এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তজুড়ে সংঘর্ষ ও বিমান হামলা আবারও বেড়েছে।
তালেবান কর্মকর্তাদের দাবি, সর্বশেষ হামলায় পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক বসতবাড়ি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হতাহতের বেশিরভাগই পাকতিকা প্রদেশের মান্দিখেল গ্রামে হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।
তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, ওই তিন প্রদেশে জঙ্গিদের ঘাঁটিতেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
এই হামলার মাত্র একদিন আগে পাকিস্তানের করাচিতে সিন্ধ রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে আত্মঘাতী হামলায় তিন সদস্য নিহত হন। ওই হামলায় আরও তিন জঙ্গি নিহত হয় এবং একজন আফগান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।
নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার, যা পাকিস্তান তালেবানের (টিটিপি) একটি ভাঙা অংশ, করাচির ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে। টিটিপি এবং জামাত-উল-আহরার—উভয় সংগঠনই পাকিস্তান ও জাতিসংঘের সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে সীমান্ত সংঘর্ষে দুই দেশের বহু মানুষ নিহত হয়। মার্চে কাবুলে পাকিস্তানের একটি বিমান হামলায় একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে শতাধিক মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া চলতি জুন মাসের শুরুতেও পাকিস্তানের আরেক দফা বিমান হামলায় ২৬ জন জঙ্গি নিহত হওয়ার দাবি করা হলেও, তালেবান সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী সেখানে অন্তত ১৩ জন বেসামরিক মানুষ, যাদের অধিকাংশই শিশু, প্রাণ হারিয়েছিল।
নতুন করে চালানো এই অভিযান দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক