যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই পাকিস্তানে ইরানের প্রেসিডেন্ট
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান ঐতিহাসিক মধ্যস্থতা ও শান্তি আলোচনার মধ্যেই এক রাষ্ট্রীয় সফরে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ওমান সফর শেষ করে ইসলামাবাদে পৌঁছালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার তাঁদের স্বাগত জানান। খবর আল জাজিরার।
উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ১৪ দফার রূপরেখা বা ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ তৈরিতে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।
এদিকে এই চুক্তি ও মধ্যস্থতা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বেশ কিছু বড় দাবি করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন থেকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে এবং সেখানে আর কোনো নৌ-অবরোধ থাকবে না। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো প্রয়োজনে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো তাদের অবস্থানেই প্রস্তুত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচির ওপর ‘সর্বোচ্চ স্তরের’ আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের বিষয়ে পুরোপুরি সম্মতি জানিয়েছে। তিনি বলেন, ইরান যদি এই শর্তে রাজি না হতো, তবে তাদের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা বা চুক্তি হতো না"
চুক্তির আওতায় ইরানের আটকে থাকা যে বিশাল তহবিল ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হচ্ছে, তা সরাসরি ইরানের হাতে যাবে না। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই অর্থ ‘এসক্রো অ্যাকাউন্টে’ জমা থাকবে, যার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে।
অবমুক্ত হওয়া এই অর্থ দিয়ে ইরান কোনো সামরিক বা অন্য খাতে খরচ করতে পারবে না। এটি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী কেনার জন্য ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের উৎপাদিত ভুট্টা, গম ও সয়াবিনের মতো কৃষিপণ্য আমদানিতে এই অর্থ ব্যয় করতে হবে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক