ফ্লোরিডার ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ অভিবাসী আটককেন্দ্র খালি করল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ফ্লোরিডার বিতর্কিত অভিবাসী আটককেন্দ্র ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ থেকে সব বন্দিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। আটলান্টিক মহাসাগরীয় ঘূর্ণিঝড় মৌসুম শুরু হওয়ায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানায়, ফ্লোরিডা পরিচালিত ওই কেন্দ্রের সব বন্দিকে অন্য স্থাপনায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে কতজনকে সরানো হয়েছে এবং কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। খবর আল জাজিরার।
ডিএইচএসের মুখপাত্র লরেন বিস বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, অবৈধ অভিবাসী বন্দিদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের অন্য স্থাপনায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
তবে আটককেন্দ্রটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। যদিও গত কয়েক মাস ধরে কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছিল।
নিউইয়র্ক টাইমস মে মাসে জানিয়েছিল, ফ্লোরিডার বিগ সাইপ্রেস ন্যাশনাল প্রিজার্ভের মধ্যে অবস্থিত এই বিচ্ছিন্ন কেন্দ্রটি পরিচালনায় ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় তা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
২০২৫ সালের ১৯ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ প্রকল্পের। সান ফ্রান্সিসকোর কুখ্যাত আলকাট্রাজ কারাগারের নাম অনুসারে তৈরি এই অস্থায়ী কেন্দ্রটি জলাভূমি পরিবেষ্টিত এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছিল, যাতে পালানোর চেষ্টা করলেও বন্দিদের জন্য আশপাশে কেবল কুমির ও অজগর সাপের মতো বিপজ্জনক প্রাণী অপেক্ষা করে।
ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেইয়ার তখন বলেছিলেন, কেউ পালাতে পারলেও সামনে কুমির ও অজগর ছাড়া আর কিছুই পাবে না। কোথাও যাওয়ার বা লুকানোর সুযোগ নেই।
কেন্দ্রটি চালুর সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডি স্যান্টিসকে সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শন করেছিলেন।
তবে শুরু থেকেই কেন্দ্রটি নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। মিকোসুকি ও সেমিনোল আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতারা অভিযোগ করেন, এটি তাদের বসতি ও ধর্মীয় স্থানের ক্ষতি করছে।
মানবাধিকার সংগঠন ও আইনজীবীরা দক্ষিণ ফ্লোরিডার প্রচণ্ড গরম, ভারী বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় কেন্দ্রটির অস্থায়ী কাঠামো যথেষ্ট নিরাপদ নয় বলে প্রশ্ন তোলেন।
এক বছরের কার্যক্রমে কেন্দ্রটির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। বন্দিরা অভিযোগ করেন, তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না, চিকিৎসাসেবা অবহেলিত ছিল এবং খাবারে পোকা পাওয়া যেত।
আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) আইনজীবী অ্যামি গডশল বলেন, এই নিষ্ঠুর কেন্দ্র থেকে মানুষদের সরিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, কিন্তু এতে ইতোমধ্যে ঘটে যাওয়া ক্ষতি মুছে যাবে না।
অ্যামি গডশল বলেন, রাজ্য ও ফেডারেল সরকারকে এই কেন্দ্র স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এখানে আর কাউকে আটক না রাখার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
৩ হাজার বন্দি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ কেন্দ্রটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল, যাতে এটি ক্যাটাগরি-২ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসও সহ্য করতে পারে বলে দাবি করেছিলেন কর্মকর্তারা।
এদিকে আটলান্টিক অঞ্চলে ২০২৬ সালের প্রথম নামকরণ করা ঝড় ‘ট্রপিক্যাল স্টর্ম আর্থার’ সৃষ্টি হওয়ার পর বন্দিদের স্থানান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে ঝড়টি মেক্সিকো উপসাগরে অবস্থান করছে এবং লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের দিকে অগ্রসর হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক