খামেনির ওপর হামলার সময় একই ভবনে ছিলেন আরাঘচি
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর সেই ভয়াবহ মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বৈরুতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন মিডিয়া নেটওয়ার্কের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ঘাসান বিন জেদ্দুকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি এই বিষয়ে বিস্তারিত বলেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানান, যে হামলায় খামেনি শহীদ হন, সেই সময় তিনি খামেনির অফিস ভবনের ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন। ওই ঘটনা তার জীবনের অন্যতম কঠিন এক মুহূর্ত ছিল। সাক্ষাৎকারে লেবানন পরিস্থিতি, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, তেহরানের বর্তমান নীতি কোনো যুদ্ধ বিস্তারের উদ্দেশ্যে নয়, বরং এটি কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে।
আব্বাস আরাঘচি জানান, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় একটি কূটনৈতিক আলোচনা শেষ করে তিনি ঘটনার দিন সকালেই তেহরানে ফিরেছিলেন। জেনেভা আলোচনার সারসংক্ষেপ এবং যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়ার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি সম্পর্কে কর্মকর্তাদের অবহিত করতে তিনি সকাল ৯টার দিকে সরাসরি আয়াতুল্লাহ খামেনির কার্যালয়ে যান।
আরাঘচির বিবরণ অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালীনই পুরো অফিস কমপ্লেক্সটি ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। হামলায় ভবনের একটি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও আরাঘচি যে অংশে বসে বৈঠক করছিলেন সেটি অলৌকিকভাবে অক্ষত থেকে যায়।
ভয়াবহ সেই হামলার ধকল সামলে যখন তিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসেন, তখন নিজের নিরাপত্তার চেয়ে সর্বোচ্চ নেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় ছিলেন বলে জানান আরাঘচি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হামলার মুহূর্তে আমি ওই অফিস ভবনেই ছিলাম। ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে আমার প্রথম চিন্তা ও একমাত্র উদ্বেগ ছিল নেতার অবস্থা কেমন তা জানা। কারণ আমি জানতাম, সামরিক উত্তেজনা ও যুদ্ধের তীব্র সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও স্বাভাবিক কার্যসূচি অনুযায়ী তিনি নিশ্চিতভাবেই তার নিজস্ব দপ্তরে অবস্থান করছিলেন।
আরাঘচি আরও উল্লেখ করেন, সর্বোচ্চ নেতার যে দৃঢ় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, তাতে তিনি নিজে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাবেন- এমনটা ভাবাই অসম্ভব ছিল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, খামেনিকে যখন বারবার নিরাপদ বা সুরক্ষিত বাঙ্কারে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছিল, তখন তিনি তা স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান করেন। যতদিন না দেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য সমানভাবে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত হচ্ছে, ততদিন আমি বাঙ্কারে বা কোনো সুরক্ষিত স্থানে যাব না। আমার দেশের মানুষের কপালে যা ঘটবে, আমার ক্ষেত্রেও তা-ই হবে।
সর্বোচ্চ নেতার এই অনড় অবস্থানকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আরাঘচি বলেন, এটি এমন এক ধরনের নেতৃত্বকে প্রকাশ করে যা কেবল মানুষের ওপর শাসন করে না, বরং মানুষের মন জয় করে রাজত্ব করে। যেকোনো কঠিন সংকটের মুহূর্তে দেশের সাধারণ জনগণের সঙ্গে নেতৃত্বের এই আত্মিক বন্ধনই খামেনির চিরন্তন রাজনৈতিক আদর্শ।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক