লেবানন-ইসরায়েলের নতুন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করল হিজবুল্লাহ
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটি এই চুক্তিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
হিজবুল্লাহর নেতা নাইম কাসেম এক কঠোর বিবৃতিতে বলেছেন, এই ধরনের আলোচনা ‘ব্যর্থ’ এবং ‘লেবাননের জন্য অপমানজনক’। তার দাবি, লেবাননের বড় অংশের জনগণও এই চুক্তিকে গ্রহণ করছে না। খবর বিবিসির।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে হওয়া এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহ যদি সম্পূর্ণভাবে গুলি চালানো বন্ধ করে, তাহলে সীমান্ত অঞ্চলে ধীরে ধীরে ‘পাইলট সিকিউরিটি জোন’ তৈরি করা হবে।
এই জোনগুলোতে লেবাননের সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং সেখানে কোনো অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না। তবে এই এলাকা কোথায় হবে বা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত মানচিত্র বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের সরিয়ে নেওয়া হবে এবং ওই এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের কথা রয়েছে।
হিজবুল্লাহ বলছে, এই শর্তগুলো বাস্তবায়ন করা হলে তা কার্যত ‘আত্মসমর্পণের’ মতো হবে এবং এটি ইসরায়েলের লক্ষ্য পূরণ করবে। সংগঠনটির মতে, তারা এই ধরনের শর্ত কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
লেবাননের রাজধানী বেইরুতের দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষও এই চুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।
অঞ্চলটির এক দোকানদার বিবিসিকে বলেন, একপক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি হতে পারে না, এটা হয় সব পক্ষ থেকে হতে হবে, না হলে কোনো যুদ্ধবিরতিই নয়।
হাদি নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, এটা নতুন কিছু নয়, আমাদের কোনো প্রজন্মই এই পরিস্থিতিতে কোনো আশা দেখেনি।
চুক্তির আলোচনা চললেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। টাইরের কাছে আরেকটি মোটরসাইকেলে হামলায় আরও একজন নিহত হয়।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল) জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মর্টার হামলায় তাদের এক সদস্য নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর ছোড়া মর্টার শনাক্ত করেছে।
এই সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে গত কয়েক মাসে। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একে অপরের ওপর ড্রোন, রকেট ও বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বহু প্রাণহানি ঘটেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তিন হাজার ৫২৬ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলে কয়েকজন সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আগামী ২২ জুন আবারও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান অবস্থায় দুই পক্ষের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় স্থায়ী সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক